মাগুরায় ঘটানো আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), উচ্চ আদালতে করা আপিল এবং জেল আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে মামলার পেপারবুক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
আদালত কর্তৃপক্ষ ও শুনানির সারমর্ম
শুনানি গ্রহণ করেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের গঠিত এ বেঞ্চ গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা আদান-প্রদান করছে। আজকের প্রথম দিনে বেঞ্চ শুনানি আংশিকভাবে গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তিতর্ক গ্রহণের জন্য সময় রাখেন।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপন
রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক আজ পেপারবুক থেকে মামলার বিভিন্ন নথি ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। তিনি পেপারবুক থেকে এজাহার, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট, ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
“পেপারবুক থেকে মামলার এজাহার, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট, ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে।”
বিচারিক কার্যক্রমের পূর্বপট
বিষয়টি সংক্রান্ত পূর্বের বিচারিক কার্যক্রম ও তারিখগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
- গত বছরের ১৭ মে — মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলায় রায় ঘোষণা করে; হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
- গত বছরের ২১ মে — বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায় এবং সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নাম্বারভুক্ত হয়।
- গত বছরের ২৫ জুন — হিটু শেখ হাইকোর্টে আপিল করেন; পরে হাইকোর্ট ১ জুলাই ওই আপিল গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।
| পদক্ষেপ | তারিখ |
|---|---|
| ট্রাইব্যুনালের রায় (মৃত্যুদণ্ড) | ১৭ মে (গত বছর) |
| রায় নথি হাইকোর্টে পৌঁছানো (ডেথ রেফারেন্স) | ২১ মে (গত বছর) |
| আপিল দাখিল | ২৫ জুন (গত বছর) |
| হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ | ১ জুলাই (গত বছর) |
ঘটনার পটভূমি ও চিকিৎসা যাত্রা
ঘটনাটি গত বছরের মার্চ মাসের শুরুতে ঘটে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিকার শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। পরে ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সাত দিন পর, ১৩ মার্চ, শিশুকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। পরে মামলার তদন্ত ও বিচার শুরু হয়।
আজকের শুনানিতে আদালত বিষয়টি আংশিক শুনেছেন বলে কার্যবিবরণীতে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন এবং বেঞ্চ পরিপূর্ণ শুনানির দিন ধার্য করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মাগুরার এই মামলা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে; ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। হাইকোর্টে চলমান শুনানি ও উপস্থাপিত প্রমাণাদি বিচারিক সিদ্ধান্তে কী দিক নির্দেশ করে, তা মাগুরা শহর এবং wider এলাকায় নিরাপত্তা ও শিশুসংরক্ষণের নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী শুনানায় আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন এবং হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের তারিখ নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।