মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে সংস্কার (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল পর্যায়ে পুনর্বিবেচনার জন্য শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হাইকোর্টের নির্ধারিত বেঞ্চ—বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা—এই শুনানি গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি ও দায়িত্বশীল আইনজীবী দল
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক, সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
মামলার তথ্যাবলী অনুযায়ী, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামের ওই কিশোরী বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে মার্চ ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। গুরুতর অবস্থা nedeniyle তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৩ মার্চ ২০২৫ সালে তিনি মারা যান।
ত্রাইব্যুনালের রায় ও ডেথ রেফারেন্স
মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছিল। ওইসব নথি পরে ডেথ রেফারেন্স আকারে উচ্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
| টপিক | তারিখ / বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার সময় | ২০২৫ সালের মার্চ (নিজনান্দুয়ালী গ্রামে) |
| মৃত্যু | ১৩ মার্চ ২০২৫ (চিকিৎসাধীন অবস্থায়) |
| ট্রাইব্যুনালের রায় | ১৭ মে ২০২৫ — প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড |
| হাইকোর্টে শুনানি শুরু | ১১ আগস্ট ২০২৬ — ডেথ রেফারেন্স ও আপিল |
বিশেষ বেঞ্চ ও সরকারের আইনজীবী দল
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিক্যভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি ২০২৬ সালের ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষ পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের মধ্যে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির সহকারী আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও জনগণের মনোভাব
ঘটনাটি মাগুরা জেলার একজন কিশোরীর ওপর নৃশংস আক্রমণ ও পরিণামে মৃত্যুর প্রেক্ষিতে স্থানীয় মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও নিন্দা ছড়িয়েছে। শিশু নির্যাতন ও হত্যার মত ঘটনাগুলো স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো করে।
- নিয়মিত মামলা পরিচালনা: ট্রাইব্যুনাল থেকে উচ্চ আদালতে দ্রুত নথি প্রেরণ করা হয়েছে।
- বিশেষ বেঞ্চ ও দল: এ ধরনের সংবেদনশীল মামলায় বিশেষ বেঞ্চ ও সরকারিভাবে গঠিত আইনজীবী দল দায়িত্ব পালন করছে।
- সামাজিক প্রভাব: শিশু সুরক্ষা ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর স্থানীয় মানুষের নজর বেশি তীব্র।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত আসা ও আপিলের নিষ্পত্তি দেশীয় আইনপ্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই শুনানি শেষ হলে মামলাটির ওপর উচ্চ আদালতের রায় দেশের অন্যান্য সময়ে প্রযোজ্য নীতিগত ও বিচারিক ভাবনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ও বিস্তারিত বিবরণ পর্যায়ে আদালত থেকে জানানো হবে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে চলমান অগ্রাধিক্যভিত্তিক শুনানি সরকারি আইনজীবীদের নিজ নিজ উপস্থাপনার মাধ্যমে চালিত হচ্ছে।