চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত জুলাইয়ে সংঘটিত নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন-এর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিমের আদালত। রিমান্ডের বিষয়টি চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ
পুলিশি ও মামলার কাগজপত্র অনুযায়ী, বড়দিঘির পাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন-এর নির্মাণাধীন ভবনে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা পাওয়ানো না হওয়ায় ওই ভবনে হামলা করে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়—এমন লিপিবদ্ধ অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি
পুলিশ সংবাদ অনুযায়ী, ডেভিড ইমনকে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ৩০ জুলাই ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
- গ্রেপ্তারের তারিখ: ২৯ জুলাই
- ফটিকছড়ি অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের তারিখ: ৩০ জুলাই
- আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর: ১২ আগস্ট
“রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।”
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তথ্য চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ নিশ্চিত করেছেন। আদালতে হাজিরের সময় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ডেভিড ইমনকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আনা হয় এবং আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও অভিযোগসমূহ
পুলিশি রেকর্ডে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলায় দুইটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দুই মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।
| বিস্তারিত | তথ্য |
|---|---|
| চাঁদার পরিমাণ (অভিযোগ) | ৫০ লাখ টাকা |
| গ্রেপ্তার | ২৯ জুলাই (যশোর কোতোয়ালি) |
| অস্ত্র উদ্ধার | ৩০ জুলাই, ফটিকছড়ি অভিযান |
| চট্টগ্রাম আদালতের রিমান্ড | ৫ দিন (১২ আগস্ট) |
| চলমান মামলা | প্রায় ১৫টি |
চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানার অভিযোগের স্বরূপ এই মামলাগুলোতে হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের আশংকা থেকে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার পাশাপাশি আরও তদন্ত ও তথ্যভিত্তিক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগী সংস্থাগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে; ইতিমধ্যে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সন্দেহভাজন চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে মামলার তদন্ত ও রিমান্ডের নির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে—বিশেষ করে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও যশোর-সংলগ্ন টার্মিনাল রুটসহ যারা সরাসরি আঘাত হানতে পারে এমন স্থানগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয়রা এখন চাইছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার ও তদন্ত যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে এমন হামলার ভয় কমে।
এই ঘটনায় আদালত, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কী ধরনের উদ্যোগ নেবে—তথ্য সংগ্রহ, হত্যাসহ আরও অভিযোগের তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে—এসব বিষয়ের বিস্তারিত ফলাফল চান এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা।
রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, WE NEWS