জুন-জুলাইয়ের ভারী লোড শেডিংয়ের পর স্বস্তি
বগুড়া জেলার অনেক এলাকায় কয়েক মাস ধরে প্রবল লোডশেডিংয়ের পর সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অতীত পরিস্থিতিতে গরমকালে দৈনিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহু জায়গায় আট ঘন্টার মত বিদ্যুৎ না পাওয়া স্বাভাবিক ছিল; কিন্তু জুন মাস থেকে সরবরাহে ধীরগতিতে উন্নতি শুরু হয় এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
সরবরাহ-চাহিদার পারস্পরিক মিল এবং কেন্দ্রীয় বিবরণ
নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বগুড়া অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইমদাদ সেলিম জানান, জেলার নেসকো আওতাধীন এলাকাগুলোতে চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে ১১০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পার্থক্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা
দুইটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অবস্থান ও চাহিদা-সরবরাহে পার্থক্য রয়েছে। বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক শামিমুর রহমান জানান, তাঁদের অধীনে থাকা সাতটি উপজেলায় নির্দিষ্ট সময়ে লোডশেডিং তেমন হয়নি; সেই সময়ের চাহিদা ছিল ৮৫ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও ছিল ৮৫ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের গড় চাহিদা সাধারণত ১৩০–১৪০ মেগাওয়াট হওয়ার কথা। গত বৃহস্পতিবার দিনের সময় ১১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পেয়েছিল ৯৯ মেগাওয়াট, ফলে দিনের মধ্যে কিছুটা লোডশেডিং হয়েছে; তবে রাত পনেরো-দ্বাদশার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিকতে ফিরে আসে।
- নেসকো আওতায়: ১১০ মেগাওয়াট চাহিদা — ১১০ মেগাওয়াট সরবরাহ (লোডশেডিং নেই)
- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১: ৮৫ মেগাওয়াট চাহিদা — ৮৫ মেগাওয়াট সরবরাহ (লোডশেডিং নেই)
- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২: গড় চাহিদা ১৩০–১৪০ মেগাওয়াট; নির্দিষ্ট দিনে ১১৮ চাহিদায় ৯৯ সরবরাহ (দৈনিক কিছুটা লোডশেডিং)
“কয়েক দিন ধরে নেসকোর অধীনে কোনো লোডশেডিং নেই,”
— ইমদাদ সেলিম, নেসকো বগুড়া অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী
বাসস্থানের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে নৈমিত্তিক জীবনে তা শূন্যের কোঠায় আসায় সুবিধা হয়েছে। শাজাহানপুরের ডেমাজনী গ্রামের ফজলুল হক বলেন, গরমের মরসুমে এখন রাতে ঘুমে ব্যাঘাত কমে এসেছে।
স্থায়ী সরবরাহ ফিরে আসায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ছোট শিল্প এবং ঘরোয়া ক্রেতাদের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে—বিশেষত যেসব শ্রেণির ছিলেন যানবাহন ও খাদ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসা, যাদের জন্য নিয়মিত বিদ্যুৎ অপরিহার্য।
চলমান চ্যালেঞ্জ ও নজরদারির প্রয়োজন
তবে জেলা-wide চাহিদা-সরবরাহের মধ্যে আশু পার্থক্য থাকায় সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা আগে থেকেই দেয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র ক্ষেত্রের মতো যেখানে গড় চাহিদা অনেক উচ্চ, সেখানে মৌসুমভিত্তিক বা জরুরি সময়ে আবার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ও মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত উদ্যোগ এই ক্ষেত্রে নির্ধারণী হবে।
| এরিয়া | চাহিদা (মেগাওয়াট) | সরবরাহ (মেগাওয়াট) | শিক্ষা |
|---|---|---|---|
| নেসকো আওতায় | ১১০ | ১১০ | লোডশেডিং নেই |
| পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ | ৮৫ | ৮৫ | লোডশেডিং নেই |
| পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ | ১৩০–১৪০ (গড়) | ৯৯ (একটি দিনের পরিপ্রেক্ষিতে) | দিনে খানিকটা লোডশেডিং, রাতভর স্বাভাবিক |
অবশেষে, স্থানীয় অফিস ও পরিষেবা প্রদানকারীর তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা ধরে রাখলে বগুড়ার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও টেকসইভাবে মেনে নেওয়া যাবে। নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা এখন আশাবাদী যে, চলতি বছর গ্রীষ্মকালীন চাহিদার চরম চাপ সঙ্গে সঙ্গে আর চিহ্নিত হবে না।