যশোর শহরের মনিহার এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাইদুজ্জামান বাবু ওরফে ‘দাঁতাল বাবু’ এবং তাঁর এক সহযোগী আজম রতনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকরণ কার্যক্রমটি বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফুলেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকরণ ও পুলিশি তথ্য
অভিযানটি পরিচালনা করে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। গ্রেপ্তারকালে ফাঁড়ির ইনচার্জ অলোক কুমার দে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) আহসান হাবীব ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সাইদুজ্জামান বাবু ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সহযোগীরা চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।
“দাঁতাল বাবু একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তাঁর বিরুদ্ধে ১৮টির বেশি গুরুতর মামলা রয়েছে।”
আরোপ ও মামলার প্রকৃতি
পুলিশি বিবরণে বলা হয়েছে যে, সাইদুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো বিভিন্ন অভিযোগ জড়িত। এছাড়া, সম্প্রতি জেলার রামনগর এলাকায় এক নিষিদ্ধ মশাল মিছিলে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও নাশকতামূলক মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত ছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
- গ্রেপ্তারকালের সময়: ১২ আগস্ট, রাত প্রায় ১টা
- স্থান: মনিহার, যশোর শহর
- গ্রেপ্তারকারী: উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি (ইনচার্জ অলোক কুমার দে)
- পুলিশি বক্তব্য: অভিযানে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে কিছু স্থির হুমকি এবং চাঁদাবাজি নিয়ে নীরবতা বজায় ছিল। গ্রেপ্তার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উদ্বেগ—দু’ই অনুভূত হয়েছে। স্বস্তি, কারণ একটি চিহ্নিত সন্দেহভাজন আটক হয়েছে; উদ্বেগ, কারণ ঘটনার সঙ্গে আরও কতজন জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।
পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতি প্রক্রিয়া অব্যাহত হবে।
পাবলিক অ্যাকশন ও পরবর্তী ধাপ
উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি এবং জেলা পুলিশ একযোগে কাজ করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের সনাক্তের চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ আরও নজরদারি বাড়িয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
| নাম | জানা পরিচয় | পুলিশবর্ণিত অভিযোগের সারমর্ম |
|---|---|---|
| সাইদুজ্জামান বাবু | যশোর শহরের আরবপুর বিমানবন্দর সড়ক এলাকার বাসিন্দা | হত্যাসহ অস্ত্র, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ১৮টির বেশি মামলা |
| আজম রতন | পুরাতন কসবা কাঁঠালতলা এলাকার বাসিন্দা | সাইদুজ্জামানের সহযোগী—জিজ্ঞাসাবাদ চলছে |
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এখন দ্রুত, প্রমাণভিত্তিক তদন্ত চালিয়ে অপরাধ জড়িতদের বিচারের মুখে নিয়ে আসতে হবে—এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। যশোরের নিরাপত্তা ও জনমনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এবং বিচ্ছিন্ন সহযোগীদের শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পুলিশি দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, মামলার প্রেক্ষিতে দ্রুত ঘটনার আর্থিক উৎস ও সম্ভাব্য সহযোগী চেইন ভাঙার চেষ্টা শুরু করা হবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।