শেরপুর শহরে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি লাভলু মিয়া (৪৯)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতেই সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনিয়া এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার বর্ণনা ও অভিযোগ
মামলার এজাহার ও পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাটিয়াপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামকে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোলোভ করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে ওই প্রক্রিয়ায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সাইফুলকে বিদেশে পাঠানো হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না দেয়ায় জটিলতা দেখা দেয়।
ভূক্তভোগীর পরিবার যখন পদক্ষেপ নেয়, তখন মামলা সূত্রে তাদের দাবি—লাভলু মিয়া আরও ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি মেটানো না হলে লাভলুর লোকজন সাইফুলকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দেয়, এমনকি তাঁকে জিম্মি রাখার কথাও উল্লেখ আছে। ঘটনার পর সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে লাভলুসহ তিনজনকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে শেরপুর স্থানীয় আদালতে মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের সূত্র ও প্রশাসনের মন্তব্য
স্থানীয় ও আদালতের নির্দেশনায় পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়ে সোমবার রাতে দশকাহনিয়া এলাকার লাভলুর নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন—
“মানবপাচার মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ওসি একই সঙ্গে জানান, মামলার অপর দুই আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন এবং তাদের ধাওয়া করে গ্রেপ্তারের কাজে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় প্রভাব ও ভুক্তভোগীর পরিস্থিতি
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা মানসিক ও আর্থিক উঠেপড়া পরিস্থিতির শিকার। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে নেওয়া অর্থের পর পরবর্তী সময় অতিরিক্ত ও অবৈধ দাবিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে বারবার গ্রস্ত হতে হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যারা কর্মসংস্থান বা বিদেশে পাঠানো নিয়ে এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাদের মধ্যে সন্দেহ বিরাজ করছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রত্যাশা
গ্রেপ্তারের পর প্রাপ্ত অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা তদন্ত করে আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে। মামলার সংযোগকারীর গ্রেপ্তার বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে—তবে তদন্তকারীরা বলছেন, সম্পূর্ণ বাস্তবতা দাঁড় করাতে অপর দুই আসামিকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা জরুরি।
ঘটনার টাইমলাইন
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সাইফুল ইসলামকে সৌদি আরবে নেবার প্রলোভনে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ |
| তারপরের সময় | চাকরি ও বেতন বিষয়ক জটিলতা ও অতিরিক্ত ১৬ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ |
| অক্টোবর (সাম্প্রতিক) | ভুক্তভোগী পরিবার মামলাটি দায়ের করেন; আদালতের নির্দেশে অভিযান এবং লাভলুর গ্রেপ্তার (১৯ অক্টোবর দিবাগত রাত) |
প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সতর্কবার্তা
- ভবিষ্যতে বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রস্তাবে টাকা দেওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও বৈধ এমপ্লয়মেন্ট নেটওয়ার্ক যাচাই করা জরুরি।
- মানবপাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে যেখানে অভিযোগ আছে, সেখানে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার প্রয়োজন, যাতে ভুক্তভোগীরা রক্ষিত হন।
- যারা অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ করে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি কার্রবাঈ স্থানীয় সামাজিক স্থিতি ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
এই ঘটনায় শেরপুর সদর থানা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এবং মামলার পরিণতি স্থানীয় আদালত ও তদন্ত সংস্থার কার্যক্রম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।