শেরপুর (বগুড়া)— ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের রোড ডিভাইডারের সঙ্গে জোরালো ধাক্কা লাগায় পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী (৩৫) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ৮টার দিকে, পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনা ও উদ্ধারের প্রক্রিয়া
পুলিশ বলছে, গ্রামের বাড়ি থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার পথে ছোনকা এলাকায় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের রোড ডিভাইডারের সঙ্গে আঘাত করে; এতে প্রাণঘাতীভাবে আহত হন গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি। গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গাড়িতে পাওয়া অফিসিয়াল পরিচয়পত্র থেকে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় ফুলিয়া গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে এবং পুলিশ সদর দপ্তরে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের প্রথম বক্তব্য
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইনও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আইডি কার্ডের সূত্র ধরে নিহতের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
লাশের ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার লাশ বর্তমানে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পুলিশ সূত্র বলছে, মরদেহ ময়নাতদন্ত ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। মহাসড়কে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমশ বেড়ে আসছে—এমন অভিযোগ অনেকেই করেন। একইসঙ্গে চালক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিচার ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে।
- নিহত: গোলাম রব্বানী, বয়স ৩৫
- পদবী: উপ-পরিদর্শক (এসআই), পুলিশ সদর দপ্তর
- স্থান: ছোনকা, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক
- সময়: শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ৮টা
আইনগত ব্যবস্থা ও অনুসন্ধান
হাইওয়ে থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ চালককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া আইডি কার্ডই নিহত পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কাজ করেছে। পুলিশের আরেকটি দায়িত্ব হবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা।
পাঠক তথ্য ও সতর্কতা
এই ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা ও চলাচলের সময় সতর্কতা বিষয়ে পুনরায় গুরুত্ব আরোপ করে। বিশেষত সন্ধ্যা-রাতের সময় মহাসড়কে গাড়ি চালানো হলে সতর্কতা অবলম্বন এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় দ্রুত চিকিৎসা ও উদ্ধার ব্যবস্থা আরও প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে বলে স্বাস্থ্য কর্মকতারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত চালক শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছে; তবে ঘটনার পর চালকের পলাতক থাকার বিষয়টি তদন্তের একটি বড় দিক। এই ঘটনায় নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।