নেত্রকোনা সদর ও দুর্গাপুর থানার পুলিশ রোববার (৯ আগস্ট) সকালে পৃথক স্থান থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল ও পুলিশের বর্ণনা থেকে স্থানীয়রা এখনো шকিত ও আতঙ্কে রয়েছেন। নিহতরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণকাটলি এলাকার স্বর্ণা আক্তার (২৫) এবং দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের বরইউন্দ গ্রামের মৃত আবদুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে শাহীন চৌধুরী (৫৫)।
দুইটি ঘটনাস্থল — এক পরিস্থিতি, ভিন্ন পরিস্থিতি
দুর্গাপুর উপজেলায় স্থানীয়রা ভোরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে একটি লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দিয়ে পুলিশকে আয়োজন করে। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারনা, নিহত শাহীন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই অচেতন হয়ে পড়তেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ পুলিশি পর্যবেক্ষণ হিসেবে বলেন যে, মরদেহে আঘাতের কোনো নির্দিষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার জয়নগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বর্ণা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ির দরজা ভেঙে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশে পুলিশের ভাষ্যে একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায় যা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অভিমানসূচক কথা ছিল বলে জানানো হয়েছে।
“চিরকুটে স্বামীর সঙ্গে অভিমানের কথা লেখা ছিল। চিরকুটের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে স্বর্ণা আত্মহত্যা করেছেন।” — নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের
ওসি আবুল খায়ের আরও জানান যে, চিরকুটে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ করা হলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশি ভাষ্যে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশি কার্যক্রম ও পরিবারের অবস্থান
দু’ওই ঘটনায় থানায় নথিভুক্তি করা হয়েছে। দুর্গাপুরে, ওসির জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নেত্রকোনা সদরঘরে ঘটনার ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা আইনি কারণে বজায় রাখা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, শহরতলির কয়েকটি এলাকায় ওইদিন সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। পুলিশ গ্রামীণ যোগাযোগ ও সাক্ষী-প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য কারণ
পুলিশি বর্ণনা অনুযায়ী শাহীন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকাসক্তি ও পথচলাচলে অচেতন হওয়া—এসবকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠেছে। স্বর্ণার ক্ষেত্রে চিরকুটে ব্যক্তি সম্পর্কিত অভিমান উল্লেখ থাকায় আত্মহত্যার সম্ভাবনা পুলিশের প্রাথমিক ধারনা হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে উভয় ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নিরূপণের দায়িত্ব এখন ময়নাতদন্ত ও তদন্তকারীর কাঁধেই রয়েছে।
- ঘটনার সময়: রোববার (৯ আগস্ট) সকাল
- স্থান: দুর্গাপুর (সোমেশ্বরী নদীর তীর) ও নেত্রকোনা সদর (জয়নগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা)
- নিহত: স্বর্ণা আক্তার (২৫), শাহীন চৌধুরী (৫৫)
নিহতদের পরিচিতজনরা ও প্রতিবেশীরা পুলিশের কাছে দ্রুত সত্য উদঘাটন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অনুরোধ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনার সঠিক পরিসর বের করতে দ্রুততর অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
পরবর্তীতে করনীয়
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এছাড়া স্বর্ণার পরিবারের পক্ষ থেকে কি কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে, সে বিষয়েও তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেবেন তদন্তকারীরা। অপরদিকে দুর্গাপুরে নিহত শাহীনের পরিবার লাশ দাবি করে দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেন—তবে ঘটনার পরিবেশ ও নাশকতার শঙ্কা থাকলে তদন্তকারীরা পুনরায় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যে কোনও নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য পরিবার ও কর্তৃপক্ষের পাওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পরবর্তী রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।