মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের এক পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা ৯৬টি মাইন সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে যশোর সেনানিবাসের বোম ডিস্পোজাল টিম। সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটার পরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাইনগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হয়। নিষ্ক্রিয়করণ চলাকালে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে বেতবাড়িয়া এলাকা কেঁপে ওঠে; পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
উদ্ধার ও প্রথম প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা গত শনিবার জমি কাটার সময় মাইন সদৃশ কয়েকটি বস্তু দেখতে পাই—এর পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের সঙ্গে বিজিবি ঘটনাস্থলকে ঘিরে রাখে এবং সেদিকটিকে ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদ্ধারের পর মাইনগুলো দেখতে পুরোনো হলেও তাদের সক্রিয়তা সম্পর্কে সন্দেহ থাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
- মোট উদ্ধার মাইন: ৯৬টি
- নিষ্ক্রিয় স্থান ও সময়: দুপুর সাড়ে ৩টার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপদ স্থানে নিয়ে ধ্বংস
- উত্তরদায়ী ইউনিট: যশোর সেনানিবাসের বোম ডিসপোজাল টিম
বিশেষজ্ঞ তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা উদ্ধারকৃত মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঝুঁকি বিবেচনায় সেগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিষ্ক্রিয় করেছেন। মাইন নিষ্ক্রিয়করণের সময় পরপর বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠে; তবে কোনো প্রাণহানি বা চরম ধরনের ভৌত ক্ষতির খবর মেলেনি।
মেহেরপুর গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিমুল কুমার দাস জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আরও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ওই এলাকায় আরও অনুসন্ধান চালানো হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা জমিতে এই পরিমাণ বিস্ফোরক থাকবে—এমন ধারণা কেউ করেননি। এলাকার পুরোনো বাসিন্দা বিপুল হোসেনের কথায়:
“এত বছর ধরে জমিটি পরিত্যক্ত থাকলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পড়ে আছে-এমন ধারণা কারও ছিল না।”
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ধারনার মধ্যে রয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে এসব মাইন ওই এলাকায় পুঁতে রাখা হয়েছিলো—তবে মাইনগুলোর প্রকৃত উৎস ও এখানে কবে রাখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
প্রভাব, অনুসন্ধান ও সতর্কতা
মাইন উদ্ধারের ঘটনা দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পর মেহেরপুরে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের পরিমাণ হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রথমদিকে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করলেও নির্বিচারে জনসমাগম রোধ করে এবং সময়মতো সেনাবাহিনীর টিমকে পাঠানোর কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনার সূত্রপাত রোধ করা গেছে।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট উদ্ধারকৃত মাইন | ৯৬ |
| এন্টি পার্সোনেল/এন্টি ট্যাংক (প্রতিবেদন অনুসারে) | বিভক্ত (রিপোর্টে ভিন্ন উৎসে পৃথক তালিকা উল্লেখ) |
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, পরিত্যক্ত জমি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরও তল্লাশি করা হলে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও জানিয়েছে তারা আশপাশে আরও অনুসন্ধান চালাবে এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সামরিক কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও তদন্ত রিপোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—বিশেষত পরিত্যক্ত জমি, নদীপাড় ও পুরনো সংঘাতকালীন স্থানে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।