মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে মাটি কাটার সময় পাওয়া ৯৬টি স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট। ঘটনা ঘটে শনিবার থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান ও পরবর্তী উদ্ধারকাজের ধারাবাহিকতায়। সোমবার বিকেলে বোম ডিসপোজাল টিম মাইনগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণের মাধ্যমে তা ধ্বংস করে।
কি পাওয়া গেল ও কী ধরণের মাইন ছিল
স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধারকৃত মাইনগুলোতে ছিল:
- মানববিধ্বংসী (অ্যান্টি-পার্সোনেল) মাইন: ৭৯টি
- ট্যাংক বিধ্বংসী (অ্যান্টি-ট্যাংক) মাইন: ১৭টি
| বিষয় | সংখ্য়া |
|---|---|
| মোট উদ্ধারকৃত মাইন | ৯৬ |
| অ্যান্টি-পার্সোনেল | ৭৯ |
| অ্যান্টি-ট্যাংক | ১৭ |
ঘটনার ঘটনা ও উদ্ধারকাজের ধরণ
স্থানীয়রা বলছেন, বেতবাড়িয়ার নুরুজ্জামানের পরিত্যক্ত জমিতে শনিবার মাটি কাটার সময় মাইনের সদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান একজন। এরপর খোঁড়াখুঁড়িতে আরও বস্তু বের হয় এবং কয়েকটি খালি বক্সও পাওয়া যায়। খবর পেয়ে গাংনী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে দেয় এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনীর যশোর সিন্দুকভিত্তিক একটি বোম ডিসপোজাল টিম সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা বিচ্ছিন্ন করে মাইনগুলো বহন করে নিকটস্থ মধুগাড়ী নদীর তীরের কাছে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করে। মাইন ধ্বংসকালে এলাকায় মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে অস্থিরতা ও পরে স্বস্তি উভয়কেই সৃষ্টি করে।
নিরাপত্তা ও তদন্ত
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (তদন্ত) শিমুল বিশ্বাস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে মাইনগুলোর ঠিক উৎস ও কখন পুঁতে রাখা হয়েছিল তা সঠিকভাবে জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আরও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় আরও অনুসন্ধান চালানো হবে।
"মাইনগুলো শক্তিশালী ছিল। ৯৬টি স্থল মাইনের মধ্যে ৭৯টি মানববিধ্বংসী ও ১৯টি ট্যাংক বিধ্বংসী ছিল,"
বোম ডিসপোজাল টিমের অংশ বিশেষজ্ঞের একটি বিবৃতিবলে মাইন সম্পর্কে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। একজন স্থানীয়—জাদু শাহ—বলেন, মাটি কাটার সময় মাটির নিচে ধাতব আকৃতির বস্তু দেখতে পেয়েছিলেন; পরে আরও বস্তু পাওয়া যায়। প্রশাসনকে খবর দেওয়ার পর এলাকাটি নিরাপত্তাবেষ্টিত করে রাখা হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে না পড়ে। অপর স্থানীয়—বিপুল হোসেন—বলেছেন, এত বছর পর এমন বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক থাকার কথা কেউ কল্পনাও করেননি।
সমস্যার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
মেহেরপুর অঞ্চলে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন কৌশলগত কারণে ক্ষেপণাস্ত্র বা মাইন পুঁতে রাখার ঘটনা ছিল—এটি আইনশৃঙ্খলার কর্মকর্তাদের ধারণা। মাটির নিচে দীর্ঘকাল থাকতে থাকা এসব মাইন এতদিনও সক্রিয় থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। পুরোনো মাইনও আর্দ্রতা, মাটি ও কোরোশনের কারণে অনিরাপদ অবস্থায় পরিণত হতে পারে এবং ছোটখাটো গতিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
- পরিত্যক্ত জমি বা অচেনা ধরনের ধাতব বস্তু দেখতে পেলে সরাসরি সাথী বা শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখুন।
- স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশকে দ্রুত জানাতে হবে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে ইচ্ছা করে না দেখার অনুরোধ রাখা হয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল এখনও অনুসন্ধান চালাতে পারে—সেখানকার নির্দেশনা মেনে চলুন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা ভূয়া নিরসন করেছে, তবে প্রকৃত উৎস ও ইতিহাস আবিষ্কারের জন্য তদন্ত অব্যাহত থাকবে। মাইন উদ্ধারের ঘটনাটি মাটির নিচে থাকা বিপজ্জনক পুরাতন বিস্ফোরক নিয়ে জনগণকে সচেতন করাই সময়োপযোগী মনে করায়।