মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া এলাকায় একটি পতিত জমি থেকে এই মাসের প্রথমার্ধে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৯৬টি ল্যান্ডমাইন—যেগুলো পরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে অগ্নিবিচ্ছিন্ন পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কার্যকরীভাবে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ কাজ পরিচালনা করে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাঠানো বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
অভিযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দিন ধরে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটিকে ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। এরপর যশোর সেক্টর থেকে ১৯ সদস্যের বিশেষ দল এসে উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করে। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ধাপে ধাপে মাটি খনন করে লুকিয়ে থাকা বিস্ফোরকগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
দলটি উদ্ধারকৃত পদার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এগুলোকে গ্রাম থেকে দূরের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে এবং সেখানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেজর তরিকুল ইসলাম।
উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলোর শ্রেণিবিভাগ
| ফলাফল | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট উদ্ধারকৃত ল্যান্ডমাইন | ৯৬ |
| মানববিধ্বংসী মাইন | ৭৯ |
| ট্যাংকবিধ্বংসী মাইন | ১৭ |
| অংশগ্রহণকারী বিশেষ টিম | ১৯ সদস্য |
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও ইতিহাসগত প্রেক্ষাপট
এলাকাবাসী বলছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিপক্ষের অগ্রযাত্রা থামাতে কৌশলগত কারণে সেখানেই মাইনের ব্যবহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় মাটির নীচে চাপা থাকায় এগুলো প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি পতিত জমিতে মাটি খননের সময় এগুলো দেখা যায়, এরপরই এলাকাবাসী ও প্রশাসন বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আনে।
“মাইন পড়ে থাকা স্থানটি প্রশাসনের লোকজন ক্রাইম সিনের ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখে। বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা জায়গাটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রেখেছিলেন,”
স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ওই জমি ছাড়া আরও কোথাও এমনই কোনো বিস্ফোরক পদার্থ মাটির নীচে চাপা রয়েছে কি না। এজন্য প্রথম তল্লাশি কার্যক্রমের পরে আরও ছক বিষয়ে জরিপ এবং নিরাপত্তার ব্যাপকতা বৃদ্ধির দাবি করেছেন কিছু বাসিন্দা।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সূত্রের বক্তব্য
গাংনী থানার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও উদ্ধারকাজে তৎপর থাকা ইউনিটগুলো অনুসারে উদ্ধার অভিযানে বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। উদ্ধার শেষে বিস্ফোরণ পরিচালনার সময় আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং গ্রামবাসীকে অদূরবর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
- অভিযান: মাটি খনন করে ধাপে ধাপে উদ্ধার
- উদ্যোগী: যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাঠান বোম ডিসপোজাল ইউনিট
- পরবর্তী ব্যবস্থা: নিরাপদ স্থানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ করে ধ্বংস
সাম্প্রতিক এই ঘটনা মেহেরপুরের গ্রামীণ এলাকায় পুরনো যুদ্ধাবশেষ নিরাপত্তার ঝুঁকি কতটা বড় হতে পারে তা আবার সামনে এনেছে। উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করলেও অনেকে ভবিষ্যতে এলাকার সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিহত করতে নির্দিষ্ট ধরনের জরিপ ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ধরনের বিস্ফোরক পদার্থের পাওয়া ও ধ্বংস একটি সংবেদনশীল কাজ; তাই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিতভাবে নিয়মিত তল্লাশি ও জরিপ চালানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।
এই রিপোর্টের ভিত্তি হিসেবে স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বাহিনীর পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও বিষয়টি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রাপ্তির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ও নিউজরুম।