দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে শুক্রবার দুপুরে ছাত্রদলের আয়োজনে যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মী অংশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশজুড়ে সেই সংগঠনের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাকে তুলে ধরে তা দমনে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশ ও মিছিলের পরিস্থিতি
ছাত্রদলের মিছিল কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল ও পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব ও বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা আহমাদুল্লাহ আল আমান সুজনসহ আরও কয়েকজন। বিক্ষোভে কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা বিশেষ করে বলেছিলেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঘোষণা করা কর্মসূচি ও এর মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া নাশকতা কলেজ ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে অব্যাহতি পায়, তাহলে ছাত্রজীবন ও অধ্যয়ন পরিবেশ নষ্ট হবে।
প্রধান দাবিগুলো
বিক্ষোভ থেকে ছাত্রদল নেতারা যে দাবি ও বক্তব্যগুলো উঠিয়েছেন সেগুলোকে সংক্ষেপে整理 করা যায়:
- নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো কর্মসূচি কলেজে বাস্তবায়ন করা হবে না।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি কার্যকর করা হোক।
- হাইকোর্টে আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় দ্রুতভাবে কার্যকর করে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হোক।
| দাবি | লক্ষ্যবস্তু |
|---|---|
| ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কর্মসূচি বন্ধ | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন |
| জ্বলন্ত হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার | তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া |
| হাইকোর্টের রায়ের দ্রুত কার্যকর | আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ |
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও তা নিয়ে আশঙ্কা
দিনাজপুর সরকারি কলেজে হওয়া এই বিক্ষোভ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা যোগ করতে পারে। ছাত্রদলের বক্তব্য অনুযায়ী, গতকালের আন্দোলন ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই তারা এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, পাঠদানে ব্যাঘাত ও সাধারণ প্রশাসনিক নিয়মাবলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে কলেজ প্রশাসন অবশ্যই নজর দেবে বলে ধারণা করা যায়।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দাবি ছিল হাইকোর্টে আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে তা দ্রুত কার্যকর করা — এই দাবি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। রায় কার্যকর না হলে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিবাদ উস্কে যেতে পারে, এমনটা ছাত্রদল নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উপস্থিতি ও সংগঠনের কণ্ঠ
সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় আহমাদুল্লাহ আল আমান সুজন ও অন্যান্য নেতারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে স্বৈরাচারের কোনো স্থান হবে না।’’ তারা একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী তৎপরতা চালিয়ে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে থাকেন।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আদালতের রায় বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বিক্ষোভ যেন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাধারণ নিরাপত্তা দুর্বল না করে সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বানকে প্রায়শই গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
এদিকে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশি সূত্রে এখনো বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শাসন ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এখনকার অবস্থায় স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা আশা করেন যে, নেতৃবৃন্দ সংযম দেখিয়ে দ্রুত কূটনৈতিকভাবে বিষয়গুলোর ন্যায়সঙ্গত সমাধান বের করবেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংঘাত ঝুঁকি থেকে শিক্ষা-পরিবেশ রক্ষা পাবে।