কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি প্রণীত "সার ডিলার নিয়োগ ও সার ডিলার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৫ (সংশোধিত)" বাস্তবায়ন নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে সারের ডিলারশিপ লাইসেন্স প্রাপ্ত ও অবস্থানগত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশোধিত নীতিমালায় একজন ব্যক্তি একাধিক ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না এবং ডিলারদের নিজস্ব গুদাম ও সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও মাঠ বাস্তবতা
কৃষি মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দিয়েছে তার উদ্দেশ্য ছিল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়মতো কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা। এই নীতিমালার কড়া প্রয়োগ হলে ইউনিয়নভিত্তিক ডিলারশিপ ব্যবস্থা ও কৃষক কার্ড বিতরণের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনেক দুর্বলতা দূর হওয়ার কথা। ওই নীতিমালার মূল বক্তব্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল:
“একজন ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না। ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”
জীবননগরে অনুসন্ধান: অভিযোগ ও প্রমাণ
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবননগর পৌরবাজার ও বিভিন্ন বাজারে একই পরিবারের সদস্যদের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিলারশিপ লাইসেন্স নেয়া হয়েছে এবং ভুয়া ঠিকানা ও কাগজপত্র ব্যবহার করে লাইসেন্স প্রদানের অনিয়ম ঘটেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে অন্য ডিলারের সার তুলে বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রি করছে, ফলে শুরুর মৌসুমেই—গত জুলাইতে—চুয়াডাঙ্গায় কৃত্রিম সারের সংকট দেখা দেয় এবং কৃষকরা চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হন।
কেউ-কার বিরুদ্ধে নাম পেয়েছে
সোর্স অনুসন্ধানে কিছু নামের উল্লেখ আছে, যাদের বিরুদ্ধে একই পরিবারের সদস্যদের নামে ডিলারশিপ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালিকাভুক্ত কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম নিম্নরূপ:
- হাজী তবিবর রহমান — জীবাননগর পৌরবাজারের একটি প্রতিষ্ঠান; প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে উল্লেখ আছে মেসার্স তবিবর রহমান ও মেসার্স সোহেল ট্রেডাস।
- জহির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন — উথলী ইউনিয়নের বাসিন্দা; প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স জহির ট্রেডার্স।
- আব্দুল খালেক — আন্দুলবাড়ীয়া বাজারে সক্রিয় (সূত্রে পরিতৃপ্ত তথ্য কিছু অংশে অসম্পূর্ণ)।
| ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান | অবস্থান | প্রয়োজনীয় নোট |
|---|---|---|
| হাজী তবিবর রহমান (মেসার্স তবিবর রহমান / মেসার্স সোহেল ট্রেডাস) | জীবননগর পৌরবাজার | একাধিক ডিলারশিপের অভিযোগ |
| জহির উদ্দিন ও নাসিমা খাতুন (মেসার্স জহির ট্রেডার্স) | উথলী ইউনিয়ন | পরিবারের নামে লাইসেন্স |
| আব্দুল খালেক | আন্দুলবাড়ীয়া বাজার | সূত্রভিত্তিক অভিযোগ; বিস্তারিত অসম্পূর্ণ |
অভিযোগের ব্যাপ্তি ও দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা
সূত্র বলছে, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সাথে বিএডিসি ও কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশের মাধ্যমে এসব অনিয়ম চলে আসছে। অনিয়মে সরাসরি যুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আটকাছড়ায় থেকে যাচ্ছলেও, কৃষকদের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত প্রতিবারই ক্ষতি করছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই সার হাতে না পেয়ে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য আইনানুগ ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সার বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ যদি নীতিমালার আলোকে পুনরায় কড়াকড়ি করে নজরদারি করা হয়, তখন কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি সীমিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে কৃষকরা বারবার দুর্ভোগের মুখে পড়বেন। আদালতীয় কিংবা প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে লাইসেন্স জালিয়াতি এবং অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উদ্ধৃত নাম ও তথ্য উৎসভিত্তিক অনুসন্ধান থেকে সংগৃহীত; কিছু ক্ষেত্রে তথ্য অসম্পূর্ণ বা নির্দিষ্ট দিক থেকে কাটা—যার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত যাচাইযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা যেতে পারে।