চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের সাহারবিল রেলওয়ে স্টেশনের উত্তরের পাশে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলটি চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড, নয়া বাজার এলাকার পাশে।
ঘটনাচক্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন সাহারবিল স্টেশন অতিক্রম করার আগের মুহূর্তে রেললাইনের কাছে ওই মহিলার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে এসে দেখে মনুষ্যদেহটি রেললাইনের ওপর পড়ে আছে এবং মুখমণ্ডলের অবস্থা থেঁতলে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
"খবর পেয়ে দেখে আমরা এক নারীর মরদেহ রেললাইনের ওপর পড়ে আছে। মরদেহের অবস্থা দেখে আমরা ধারণা করছি, ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে,"
স্থানীয় বাসিন্দা শওকত মিয়া এ কথাগুলো জানান।
রেল প্রশাসন ও পুলিশের ব্যবস্থা
সাহারবিল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ফরহাদ চৌধুরী সংবাদদাতা (সূত্র)কে জানান, ট্রেনটি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে স্টেশনের কাছে অতিক্রম করার সময় ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানান, বিষয়টি রেল পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং রেলওয়ে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপযুক্ত অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
রেললাইনের কাছে বসবাসকারী মানুষের জন্য এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়; তবে প্রতিবারই এটি কম্পমান করে। সাহারবিল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রেললাইনের দু’ধারে জনবহুল বাজার ও পথচলাচল থাকে। অপ্রতিষ্ঠিত পারাপারের স্থান, রেলপথে হাঁটা বা রাতের বেলা অনির্দিষ্ট আইনের ভাঙন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
- সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর
- ট্রেন: চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস
- স্থান: সাহারবিল রেলওয়ে স্টেশন উত্তরে, নয়া বাজার (উত্তর হারবাং ইউনিয়ন)
স্থানীয়রা বলেন, রেললাইন পারাপারের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ পথ না থাকায় পথিকদের লোকালয়ে ঝুঁকি বেড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরে এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বৈধ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর স্থানীয়দের দাবি থাকবে।
পরিচয় শনাক্তকরণ ও পরবর্তী ধাপ
মরদেহের মুখমণ্ডল থেঁতলে যাওয়ায় পরিবার বা পরিচিতদের মাধ্যমে পরিচয় নিরুপণ করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। পুলিশের তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয়হীন ওই নারীর কে–তা নির্ধারণ করা হবে। রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ হস্তান্তর, সনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেই জানানো হয়েছে।
এমন দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, রেল ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের দ্রুত সমন্বয় জরুরি — যাতে পরিচিতি মিললে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় এবং দরকারি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
পাঠকের জন্য গুরুত্বপুর্ণ তথ্য
রেলপথ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী ও যাত্রাকারী মানুষদের নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা যেতে পারে:
- রেললাইন পারাপারের জন্য নির্ধারিত ক্রসিং ছাড়া অন্যত্র রেললাইন পার করা এড়ানো।
- রাতের বেলা রেলপথের পাশে দাঁড়ানো বা বসে থাকা থেকে বিরত থাকা।
- কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত রেল Polisi বা স্থানীয় পুলিশের সাথে যোগাযোগ।
এই রিপোর্টটি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্টেশন মাস্টারের বরাত দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আপডেট দেওয়া হবে।