মেহেরপুরের গাংনী থেকে ৭৩ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক এক ব্যক্তিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও চার মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ঘটনার বিবরণ ও বিচারিক নিষ্পত্তি
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের মো. পাঞ্জাব আলীর ছেলে মোনতাজ আলী। সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, এই মামলার মূল ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ঘটনায় উপস্থিত ছিল বিজিবি ও সীমান্ত রক্ষার টহলদল; তৎকালে গাংনী উপজেলার সহড়াতলা বিওপির সুবেদার মোহাম্মদ ইসরাইল শেখের নেতৃত্বে টহল বাহিনী সীমান্তের ১৪৫/৩ পিলারের ১০০ গজ দক্ষিণে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে মোনতাজ আলীকে আটক করে।
গ্রেফতারের পর ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি (সূত্রের তারিখ অনুযায়ী) গাংনী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ছয়জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং সাক্ষীরা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ সমর্থন করেন।
“১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদণ্ড”
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কবির এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নজরুল ইসলাম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মীর আলমগীর ইকবাল কৌঁসুলি।
স্থানীয় প্রভাব ও অনুসরণীয় প্রশ্ন
এই রায়টি গাংনী ও মেহেরপুরবাসীর জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে—সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে আনার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারীরা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সীমান্ত পাহারা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগও জাগাতে পারে।
- ঘটনাস্থল: গাংনী উপজেলার সীমান্ত এলাকা (১৪৫/৩ এস পিলার থেকে ১০০ গজ দক্ষিণ)
- গ্রেফতারকৃত: মো. মোনতাজ আলী (কাজীপুর গ্রামের নিবাসী)
- প্রকাশিত সাজা: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ৪ মাস অতিরিক্ত কারাদণ্ড
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য পাচারের ঘটনা এ ধরনের সাজা দিয়ে কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও আগের ধারা
মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা অনুযায়ী তদন্ত ও অভিযোগপত্রভুক্ত ছিল। প্রাথমিক তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল এবং সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ উল্লেখযোগ্য; আদালতের রায়ে সাক্ষীদের প্রদত্ত বক্তব্যগুলোর তাৎপর্য প্রতীয়মান।
এ ধরনের মামলায় আপিলের সুযোগ থাকায় সংশ্লিষ্টের পরবর্তীতে অ্যাপিল করবার অধিকার রয়েছে—তবে আপিলের ফল কেমন হবে তা কোর্ট উইল সিদ্ধান্ত নেবে।
মামলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় কার্যকর করেছেন; রায়ের কার্যকরকরণ ও ভবিষ্যৎ আইনি স্থিতি সম্পর্কে আদালত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোন ভিন্ন বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
WE NEWS, মেহেরপুর প্রতিবেদক: প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস হচ্ছে মেহেরপুরের স্থানীয় সংবাদসংস্থা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ।