বগুড়ার তিনমাথা রেলগেট সংলগ্ন আদর্শ কলেজ গেট এলাকায় থাকা নিবন্ধনহীন একটি আবাসিক হোটেলে অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম চলছিল—জানিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্প, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের যৌথ অভিযানে হোটেলটির ভিতর থেকে মোট ২০ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। অভিযান সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে।
অভিযান ও অভিযুক্তদের যোগসূত্র
তল্লাশির সময় হোটেলের নতুন পকেট গেটের তালা কেটে ভেতরে ঢুকেন অভিযানকারীরা। দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন কক্ষ ও ছাদে তল্লাশি চালিয়ে পাশের অন্য ভবনের ছাদ থেকে ১৪ জন নারী ও ৬ জন পুরুষকে আটক করা হয়। প্রত্যেক ধরা ব্যক্তিকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানকালে হোটেল থেকে মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং হোটেল পরিচালনায় সরাসরি জড়িত ৪ জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পূর্বে সিলগালা হলেও গোপনে ব্যবসা
জানানো হয়, এই হোটেলটি—‘অবকাশ’ নামে—আগেই জেলা প্রশাসন কর্তৃক সিলগালা করা হয়েছিল। তবু হোটেল কর্তৃপক্ষ সেই সিলএতে ভাঙচুর করে অন্য পাশে নতুন একটি পকেট গেট করে এবং বাইরে তালা ঝুলিয়ে গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। স্থানীয় কেউ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হাসান অভিযানের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে অবৈধ কার্যক্রম চলছে এবং প্রশাসনের সিলগালা কার্যত অদক্ষ ছিল। তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি করেন যে এটি কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং হোটেলটিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
“আমরা কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং এই অনৈতিক আখড়াটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ফয়সাল আহমাদ জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন অবৈধভাবে হোটেল পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। নিবন্ধনহীন হোটেল সিলগালা করার পর তা ভেঙে পুনরায় অবৈধভাবে চালু করায় ওই চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জনকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক রাখার দায়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযান মোকাবিলায় অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ধরনের স্থানে সাময়িকভাবে অভিযান চালিয়ে বিচ্ছিন্ন ধারে অপরাধ নিবারণ সম্ভব হলেও সিস্টেমগতভাবে অযোগ্য সেবা, নিবন্ধনবিহীন ব্যবসা ও স্থানীয় সহগে এমন কার্যক্রম বাড়ছে—এ ব্যাপারে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
- অভিযানকাল: সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত
- অটক অসংখ্য: ২০ জন (১৪ নারী, ৬ পুরুষ)
- ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা: হোটেল পরিচালনায় সরাসরি জড়িত ৪ জনকে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
| আইটেম | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| অটককৃত | ২০ জন (১৪ নারী, ৬ পুরুষ) |
| কারাদণ্ডপ্রাপ্ত | ৪ জন (এক মাস করে বিনাশ্রম) |
| জব্দ সামগ্রী | মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী |
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নিবন্ধনবিহীন ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং প্রশাসন সিলগালা করলেও হোটেলটির গোপন উপায়ে পুনরুদ্ধার নিয়ন্ত্রণে আনার যথাযথ তদবির প্রয়োজন।
অভিযান ও আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থাসহ হোটেলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কতৃপক্ষ কৃষ্ণপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নেবেন কি না—এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন এই ধরনের অনৈতিক কাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে অঞ্চলটির শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।