লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে হামের টিকা দেওয়া হওয়ার পর এক ১১ মাস বয়সী শিশুর ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুটির পরিবারের দাবি অনুযায়ী টিকা দেওয়া স্থানে ফোঁড়া ও রক্তক্ষরণ ঘটেছে। পরিবার বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন এবং ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাপ্রবাহ
শিশুটির বাবা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেকে ২৭ জুলাই রামগঞ্জের পোদ্দার বাড়ির টিকা কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। টিকাদানকারী ছিলেন শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, টিকা দেয়ার কিছু দিন পরই শিশুটির ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে ফোঁড়ার মতো ক্ষত দেখা দেয় এবং সেই স্থান থেকে পুঁজ ও রক্ত বের হতে শুরু করে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৭ জুলাই | টিকা প্রদান (পোদ্দার বাড়ি টিকা কেন্দ্র) |
| নাম উল্লেখ নেই | টিকা প্রদানের পরে পায়ে সংক্রমণ দেখা দেয় |
| ২ সেপ্টেম্বর | পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে; তদন্ত নির্দেশ |
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
শিশুটির দাদি রেহানা আক্তার বলেন, শিশুটির পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে এবং তারা ‘‘বিপদে’’ আছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে টিকাদানকারী সমস্যাটি অবহেলা করেছেন। টিকাদানকারী শারমিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন,
“ভুল হতেই পারে, মানুষ ভুল করে না? হাজারো ডাক্তার ভুল করে রোগী মারা যায়, কই কিছু তো হয় না। তাহলে আমার বিষয়টা নিয়ে এত মাতামাতি কেন?”
অন্যদিকে উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করেছেন। রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আব্দুল্লাহ আল-আমিন জানান, তিনি শিশুটিকে পরীক্ষা করেছেন এবং টিকাপ্রদানকারী ভুল জায়গায় টিকা দিয়েছেন বলে তাঁর ধারণা। আল-আমিন আরও বলেন, যথাযথ চিকিৎসায় সংক্রমণ সেরে উঠবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেন, পরিবার একটি আবেদন করেছে; বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোস্তাক আহমেদও জানিয়েছেন, পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে শিশুকে সরকারি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় উদ্বেগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
টিকাদান সেবায় ত্রুটির অভিযোগ এমন ঘটনা লোকচক্ষুর সামনে আনে যে, প্রতিরোধমূলক টিকাদান প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সতর্কতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণ, টিকা সংরক্ষণে শীতলশৃঙ্খল বজায় রাখা, স্যানাইটেশন ও টিকাদান পদ্ধতি মেনে চলা—এসবই সম্ভাব্য জটিলতা রোধে অপরিহার্য।
- পরিবারের দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে তদন্তাধীন।
- টিকাদানকারী স্থানীয় নার্স টিকাদান সঠিকভাবে করেছেন কি না তা সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করা হবে।
- শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালের পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনার তথ্য দ্রুত সম্প্রসারণ হলে টিকাদানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুন্ন হতে পারে—এটি জনস্বাস্থ্য প্রভাবিত করে। তাই তদন্তে প্রাপ্ত ফলাফল এবং প্রয়োজনে অনুরূপ ত্রুটি রোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা নির্দেশ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী করণীয়
উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা ও তদন্ত প্রতিবেদন যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশ করা প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকবে। পরিবারের চিকিৎসা নিশ্চিত করাও অনিবার্য।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রামগঞ্জবাসী ও স্বাস্থ্যসেবার সংশ্লিষ্টরা এখন ফলাফল জানার অপেক্ষায়। তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং পরবর্তী আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বর্ণনা জানা যাবে।