টাঙ্গাইলের বাসাইলে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাত স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তদন্ত ও কারণ জানতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও গ্রেফতার
বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাঝে রাতে ফুটপাতের কাজ সম্পন্ন করার সময় রডের বদলে বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব ঢালাই করার অভিযোগে বাসাইল থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করে। মামলায় বাদী হয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান।
প্রকল্পের পরিসংখ্যান ও তত্ত্বাবধান
প্রকল্পটি মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় এবং এর অনুমোদিত মূল বাজেট ছিল ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সেতুটি পিএসসি গার্ডার পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হচ্ছে, দৈর্ঘ্য ৯০.৬ মিটার নির্ধারিত ছিল। কাজের সুচনা হয়েছিল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং শুরুতেই শেষ হওয়ার সময় ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি; পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম (সংক্ষিপ্ত) | ৯০ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণ |
| ঠিকাদার | মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) |
| মূল বাজেট | ১০,০৯,৯২,০০০ টাকা |
| শুরু ও নির্ধারিত সমাপ্তি | শুরু: সেপ্টেম্বর ২০২২, শেষ: ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (মেয়াদ বৃদ্ধি) |
স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থা ও তদারকি পদক্ষেপ
অভিযোগ জানার পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক সাইট পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে এবং তাকে সহযোগিতা করতে বসানো হয়েছে বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রেকটিফিকেশন নোটিশ
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এবং কাজ ঠিকমতো না করলে রেকটিফিকেশন করণের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাফিলতির দায় সম্পর্কে কৈফিয়ৎ তলব করা হয়েছে।
প্রভাব ও ঝুঁকি
সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু নির্মাণে নকশা ও উপকরণে অনিয়ম ঘটলে তা সরাসরি পরিবহন নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব ফেলে। ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের স্ল্যাবে রড ব্যবহার নকশা ও মান নির্দেশনা অনুযায়ী অপরিহার্য; রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করলে নির্মাণের স্থায়িত্ব ও জনসুরক্ষা প্রভাবিত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও তত্ত্বাবধায়কদের এখনই কাজটি পরীক্ষাসহ পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও অপেক্ষমাণ পদক্ষেপ
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আটক সাব-ঠিকাদারকে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর কাজ কি এস্ট্রটিকভাবে স্থগিত করা হবে নাকি সংশোধন করা হবে তা চূড়ান্ত হবে।
- গ্রেফতার: সাব-ঠিকাদার শাহ আলম (৪৪)
- প্রকল্প মূল্য: ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা
- তদন্ত: তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি, রিপোর্ট এক দিনের মধ্যে
ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট ও প্রশাসনের নেওয়া পরবর্তী পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ সেতুটি ব্যবহারযোগ্য না হলে তা চলাচলে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তদন্তের ফলাফল ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।