অপরাধ বাসাইল টাঙ্গাইল (17)

টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রড না দিয়ে বাঁশ ব্যবহার: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন

বাসাইলে নির্মাণাধীন ৯০.৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সরকারি সেতুতে রাতের আঁধারে ফুটপাত স্ল্যাব ঢালাইতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করার অভিযোগে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে ও প্রধান ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রড না দিয়ে বাঁশ ব্যবহার: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার মাইজখাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পিএসসি গার্ডার সেতুর ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠার পর এই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং সাব-ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হলো। বিষয়টি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির নিশ্চিত করেন।

ঘটনার ভূমিকা ও অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে ও সংশ্লিষ্টদের জানায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯০.৬ মিটার। এই প্রকল্পটির শুরুর তারিখ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর এবং কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি; পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেতুটি নির্মাণের কাজটি পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মী ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চালাতে গেলে, রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। কয়েকজন স্থানীয়রা ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ করে; পরে স্থানীয়রা বাধা দিলে বিকল্পভাবে কাজ কিছুক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পরে আবার রাতের আঁধারে কাজ চালিয়ে শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

গ্রেপ্তার ও মামলা

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে। ওসি জানান, গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলমের বয়স ৪৪ বছর এবং তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে। প্রধান ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে। অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন।

তদন্ত কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এবং উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেকও বিকালে ব্রিজটি পরিদর্শন করেন।

প্রকল্পের অবস্থা ও ঝুঁকি

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্বেগ যে, সঠিক মানসম্পন্ন রড ব্যবহার না করলে ভবিষ্যতে সেতুর স্থায়িত্ব ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের উপর বাড়তি তদারকি না থাকলে সরকারি উৎসের স্মরণীয় বড় বাজেট বাস্তবায়নে প্রশ্নচিহ্ন উঠবে।

  • প্রকল্প খরচ: ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা
  • সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯০.৬ মিটার
  • কাজের শুরু: সেপ্টেম্বর ২০২২
  • আদৌ নির্ধারিত সমাপ্তি: ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (পরবর্তীতে সময় বাড়ানো হয়েছে)
  • অবস্থান্ধ্য কাজ শেষ: প্রায় ৮০%
পদনাম / বিবরণ
প্রকল্প ঠিকাদারমেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)
মামলার বাদীবাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান
গ্রেপ্তারসাব-ঠিকাদার শাহ আলম (৪৪)
তদন্ত কমিটিআহ্বায়ক: মো. আহাদি হোসেন; সদস্য: রবিউল আলম, মো. আলতাব হোসেন

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

স্থানীয়রা সতর্কতা ও দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলছেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর সুরক্ষা ও টেকসই নিশ্চিত করা উচিত—নইলে সেতুর ব্যবহারকারীরা ঝুঁকিতে পড়বেন। কর্তৃপক্ষের জানান, তদন্ত শেষে দোষী পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে কাজের পুনর্মূল্যায়ন ও রিকটিফিকেশন করে মান নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনায় তদন্ত, দায়াদিতে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা আপাতত প্রশাসনিক ব্যবস্থা কী হবে সে বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শেষ করে প্রকল্পের ভবিষ্যত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদারি ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।

অপরাধভিত্তিক এ ঘটনার আরও বিবরণ ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আপডেট দেওয়া হবে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

17টাঙ্গাইল

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো টাঙ্গাইল, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব