নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শুক্রবার ভোরে ঘরে-ঘরে ঘটে যাওয়া এক দেশান্তরকারী ঘটনার ফলে পরিবারে শোকের ছায়া নেয়। ওই গ্রামে মৃত ইউনুস আলীর ছেলে আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) ছেলের ছুরিকাঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও আরেক ছেলে জখম হন এবং অভিযুক্ত ছেলে পালিয়েছে—পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বর্ণনা
শিবপুর মডেল থানা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুক্তভাবে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিহত বাছেদ ও hänen ছেলে শাকিল একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে আশেপাশের লোকজন চিৎকার শুনে দেখে শাকিল তাকেই ছুরিকাঘাত করছেন। বাধা দিতে গেলে তিনি তার মা ও ভাইকেও আঘাত করেন।
- নিহত: আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫)।
- আহত: সখিনা বেগম (মা) ও নুরুন্নবী রাশেদ (ভাই)।
- অভিযুক্ত: শাকিল চৌধুরী (৩৫), পেশায় নির্মাণ শ্রমিক—ঘটনার পর পালিয়ে যায়।
পুলিশের পদক্ষেপ ও মৃতদেহের প্রক্রিয়া
ঘটনার খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আহত দুইজন বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেছেন, “এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। হত্যার কারণ জানার পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য
পরিবারের আত্মীয়-স্বজনরা সংবাদকর্মীকে জানান, বাছেদের সঙ্গে তার ছেলের পূর্বেকার কোনো বিশেষ পারিবারিক বিবাদ ছিল না। প্রতিবেশীদের একাংশ বলছেন, ঘটনার সময় বাড়িতে হঠাৎ ধরে সবার ঘুম ভেঙে যায় এবং পরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাদের অভিমত অনুযায়ী ঘটনা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো পূর্বশঙ্কা বা ঝামেলার কোনো লক্ষণ ছিল না।
লোকালয় এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন
শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের এই ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা ও পারিবারিক হিংসার ভেতরকার জটিলতা তুলে ধরে। গ্রামের মফস্বল জীবনে এমন ধরনের হত্যা ঘটনা সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রশ্ন তোলে—ইতোমধ্যে গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা দাবি করছেন দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ন্যায্য বিচার করা হোক।
অভিযুক্তের খোঁজ ও তদন্তের অগ্রগতি
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন। তার সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য, যেমন আগের কুণ্ঠা, মানসিক অসুস্থতা বা অপরাধমূলক অতীত—নিহিত বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া, শিবপুর, নরসিংদী |
| মোট নিহত | ১ (আব্দুল বাছেদ মিয়া, ৬৫) |
| আহত | ২ (সখিনা বেগম ও নুরুন্নবী রাশেদ) |
| অভিযুক্ত | শাকিল চৌধুরী (৩৫), পলাতক |
সমাজ ও আইনী পাঠ
স্থানীয় আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের মতে, পরিবারের ভিতরে সংঘর্ষ বা মানসিক চাপ থেকে অবিমানমূলক কাজকে প্রতিহত করার জন্য জরুরি মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এমন ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে বিচার নিশ্চিত করাই অতীব জরুরি—এতে ভবিষ্যতে সমজাতীয় ঘটনার প্রতিরোধ সম্ভব।
এই ঘটনা নিয়ে শিবপুর মডেল থানা আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের বা গ্রেফতার সংক্রান্ত নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।