যশোরের শার্শা ও বেনাপোল এলাকায় সম্প্রতি বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পরবর্তী সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন নারী-পুরুষসহ মোট ১১০ জন। স্থানীয়রা বলছেন, একটানা হামলার ফলে জেলা-উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও کودদের স্কুলে পাঠাতে অনেকে অনিচ্ছুক।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও স্থানীয় চিত্র
স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ আলী জানান, ১ সেপ্টেম্বর সকালে একটি দল বেওয়ারিশ কুকুর রেললাইন পার হয়ে আমড়াখালীর কাছাকাছি এলাকায় ঢুকে আচমকা আক্রমণ শুরু করে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ওই কুকুরগুলো অন্তত ২০ জনকে কামড়ে জখম করে। সেই সময় থেকে এলাকায় মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে বলেছেন তারা সন্তানদেরও স্কুলে পাঠাতে ভয় পান।
“কুকুরগুলো আটকে রাখা না হলে কেউ নিরাপদ নয়। মানুষ বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছে না,”—স্থানীয় আমড়াধালী গ্রামের বাসিন্দা মোরশেদ আলী।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে শুধু শার্শা ও বেনাপোল এলাকায় কুকুরের কামড়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ৪৮৩ জন, এবং সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহে আরও ১১০ জন স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। ফলে মোট আহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৫৯৩। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী ও পেশার মানুষ রয়েছেন—নামে উল্লেখ রয়েছে সেলিম রেজার ছেলে সোহান হোসেন (২৯), সিরাজুল ইসলাম (৪৫), মোরশেদ আলী (৫২), মহিউদ্দিন (৫৫), কবির হোসেন (৩৫), আছিয়া খাতুন (৩৫), বাছিরুন নেছা (৪৫), আনোয়ারা খাতুন (৪৫), আব্দুল বাকী (১৮) ও সাইমুন (২৫) প্রভৃতি।
স্বাস্থ্যসেবার প্রতিক্রিয়া
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ ঘটনাগুলো নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে আসা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করান যে, “কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক হলে মৃত্যু অনিবার্য”—এজন্য আক্রান্তদের অবিলম্বে ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি এবং পোষা প্রাণীদের নিয়মিত অ্যান্টি-র্যাবসি ভ্যাকসিন দেওয়ার ওপর জোর দেন।
স্থানীয় দাবি ও প্রশাসনিক প্রত্যাশা
আক্রান্ত ও সাধারণ মানুষ স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও জরুরি হস্তক্ষেপ চান। তারা চাইছেন কুকুর নিধন বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হোক যাতে নিরাপত্তাহীনতার অবস্থা শেষ হয়। অনেকে উল্লেখ করেছেন যে স্কুলে যাওয়া-আসা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে।
- বতর্মান চিকিৎসা: আহতরা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও র্যাবিস ভ্যাকসিন পাচ্ছেন।
- লোকাল সংবাদ: আক্রমণের সময় অন্তত ২০ জনকে একসঙ্গে কামড়ানো হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানায়।
- প্রশাসনিক চাওয়া: দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম ও পোষ্যগুলোর টিকা অত্যন্ত জরুরি।
| সময়কাল | আহতসংখ্যা |
|---|---|
| আগস্ট (শার্শা ও বেনাপোল) | ৪৮৩ |
| ১–৭ সেপ্টেম্বর | ১১০ |
| মোট (উল্লেখিত সময়) | ৫৯৩ |
সতর্কতা ও জানার মতো কথা
চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুসারে, কুকুরের কামড় এলে দ্রুত ক্ষত ধুয়ে সেনিটাইজ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে হবে। যদি কামড় নিউমেটিক বা গভীর হয়, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও সিরিজভিত্তিক জলাতঙ্কভ্যাকসিন গ্রহণ জরুরি। এছাড়া পোষ্য কুকুরকে নিয়মিতভাবে র্যাবিস টিকা দেওয়া এবং বেওয়ারিশ কুকুর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে নিয়মিত ধরা ও নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করানো প্রয়োজন।
এ মুহূর্তে স্থানীয়রা প্রশাসনের ত্বরিত উদ্যোগ চাচ্ছেন। কুকুর উপদ্রব বন্ধ না করা পর্যন্ত এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক হওয়া কঠিন বলে অনেকেই মনে করেন। পরিস্থিতি কিভাবে বদলাবে তা নির্ভর করছে স্বাস্থ্য-প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের গতিতেই।