রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) আগামী তিন মাস-ব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ কার্যক্রমের সূচনা করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা ও টিএন্ডটি কলোনীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
উদ্বোধন ও প্রধান আহ্বান
উদ্বোধনকালে প্রশাসক রিটন নগরবাসীর কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে চলবে এবং তা শুধুমাত্র কর্পোরেশনের একক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ নয়—নাগরিক সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
“ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কোন কার্যক্রমগুলো চালানো হবে
রাসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে নিম্নলিখিত কাজগুলো:
- জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ
- পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার
- ড্রেনে লার্ভিসাইড স্প্রে
- ফগার স্প্রে (মশক নিধন)
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য ও কার্যনির্বাহ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাসিকের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খাইরুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু ও মশক কর্মকতা (মনিটরিং) জুবায়ের হোসেন মুন।
গণসংযোগ ও প্রচারণা
উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য অনুরোধ করা এবং যেখানে পানি জমে রয়েছে সেগুলো দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা। প্রশাসক রিটন সবার কাছে অনুরোধ করেন যেন কেউই পানির ছোট ছিদ্র বা সর্তান্তে পানি জমতে না দেয়।
সামগ্রিক উদ্যোগ ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপট
রিটন উল্লেখ করেছেন যে নগরকে আরও সুন্দর, সবুজ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ বছরব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে ২,৫০,০০০টি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নগরবাসীকে প্রতি জনকে একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও নাগরিক দায়িত্ব
ডেঙ্গুর মতো বায়বাহী ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসন কর্তৃক নেওয়া পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও শহরের প্রত্যেক বাসিন্দার ভূমিকা সমানভাবে জরুরি। ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ড্রেন ও ময়লা কাঁচা-বাস্তবে নজর রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করাই প্রাথমিক প্রতিরোধের মাধ্যম। রাসিকের ঘোষিত কার্যক্রমগুলো সুসমন্বিত ও নিয়মিত কার্যকর করা হলে নগরদলের ডেঙ্গু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মসূচির কার্যধারা (সংক্ষিপ্ত টেবিল)
| কার্যক্রম | লক্ষ্য/বার্তা |
|---|---|
| জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ | ডেঙ্গু লক্ষণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো |
| পরিচ্ছন্নতা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার | মশার ডেরা নির্মূল করা |
| ড্রেনে লার্ভিসাইড প্রয়োগ | ডেঙ্গু বাহক লার্ভা ধ্বংস করা |
| ফগার স্প্রে | প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিম্নমাত্রায় আনা |
রাসিক প্রশাসনের এই তৎপরতা যে নাগরিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলবে তা প্রত্যাশিত, তবে কার্যকর ফল পেতে হলে নিয়মিত সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও নাগরিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নগরবাসীকে নিজ নিজ স্তরে সাবধানতা অবলম্বন করার আহ্বান শোনা গেছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।