বরিশালে কেন্দ্র যুক্ত হওয়ার পটভূমি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকায় এইবার বরিশাল বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কেন আগে বাদ পড়েছিল বরিশাল?
রাবি পরিচালন পক্রিয়ায় প্রথমে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর—ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট—কে পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর ভর্তিচ্ছুদের স্মারকলিপি ও দাবি বিবেচনায় বিশেষভাবে বরিশালকেও পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠাতে হয়। বরিশাল বিভাগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এবং আমাদের যেন শিক্ষক সংকট না হয়, সেই কথা বিবেচনা করেই প্রথমে বরিশাল বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”
উপাচার্য একই সঙ্গে জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে আবেদন ও অংশগ্রহণে সুবিধা দিতে বরিশালকেও যোগ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে পরিবর্তনও হতে পারে।
পরীক্ষার সময়সূচি ও আবেদন
জানা যায়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ-এর ভর্তি পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখগুলো হলো:
- ৮ জানুয়ারি ২০২৭ — ‘বি’ ইউনিট (বাণিজ্য)
- ৯ জানুয়ারি ২০২৭ — ‘সি’ ইউনিট (বিজ্ঞান)
- ১৬ জানুয়ারি ২০২৭ — ‘এ’ ইউনিট (মানবিক)
প্রাথমিকভাবে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের প্রস্তাবিত সময়সীমা ছিল ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে এই তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয় এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনপত্রের পরে তা চূড়ান্ত করা হবে।
| প্রশ্ন | তথ্য |
|---|---|
| ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র | দেশের আটটি বিভাগীয় শহর, এখন বরিশালও অন্তর্ভুক্ত |
| পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ | ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি ২০২৭ (এবং ইউনিট অনুযায়ী) |
| আবেদনের প্রস্তাবিত সময় | ১২–২৭ নভেম্বর (চূড়ান্ত নয়) |
বরিশালভিত্তিক ভর্তিচ্ছুদের প্রভাব ও প্রতিবর্ত
বরিশাল বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষার প্রবেশ পরীক্ষায় কেন্দ্র হওয়ার দাবি করে এসেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী রাজধানী কিংবা অন্যান্য দূরবর্তী শহরে যেতে অস্বচ্ছন্দ, তাদের জন্য জেলা কেন্দ্র যুক্ত হওয়া সুবিধাজনক। যাতায়াত খরচ, থাকা-খাওয়া ও পরীক্ষার দিনে ক্লান্তি—এসব সমস্যা কিছুটা প্রশমন হবে বলে শিক্ষার্থীরা আশা করছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, কেন্দ্র বাড়ানোর ফলে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা আরও সুচারুভাবে করতে হবে যাতে শিক্ষক সংকট না হয় এবং পরীক্ষার মান বজায় থাকে। উপরন্তু, ভবিষ্যতে কেন্দ্র সংখ্যা বা নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট করেছেন।
ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা
আশা করা যাচ্ছে, পরীক্ষার কেন্দ্র বরিশালে যুক্ত হওয়ার ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যেতে পারে। তবে আবেদনপত্র, কেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ মোতায়েন—এসব বিষয় নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কড়াকড়ি ও পরিকল্পনা জরুরি থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত হলে তা অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘোষণা এক ধরনের ইতিবাচক সূচনার মতো হলেও বাস্তবে কার্যকর করতে প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য।
মনিরুজ্জামান খান
বরিশাল প্রতিনিধি, WE NEWS