যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি (২০২৬) পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী ঘোষণা করেছেন, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশে মোট ১ হাজার ৬৮৪ শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।
আবেদন ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, এ বছর মোট ২৫ বিষয়ের খাতার পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বোর্ডে ৭৪,৭১৭টি আবেদন জমা পড়ে। উল্লেখ্য, এবারে প্রথমবার হিসেবে প্রতিটি খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে—শুরুর দিকে প্রয়োগকৃত পদ্ধতির তুলনায় বেশি বিশদভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানানো হয়।
“এবার প্রতিটি খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়; ফলে ১ হাজার ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়েছে। যেসব শিক্ষকদের ত্রুটির কারণে ভুল হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে”, বললেন প্রফেসর এস এম হোসেন আলী।
ফলাফল ও গ্রেড বদলের সারাংশ
পুনঃনিরীক্ষণের পর গতানুগতিক গ্রেড বদলের নিরিখে সবচেয়ে চোখে পড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে—৭৫৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। নতুনভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৮০ শিক্ষার্থী। নতুনভাবে উত্তীর্ণদের মধ্যে গ্রেডবিন্যাস ছিল বিস্তৃত—এ গ্রেড থেকে ডি গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরে পরিবর্তন রয়েছে।
- কতজন নতুন জিপিএ-৫ পেলেন: ৭৫৩
- নতুনভাবে উত্তীর্ণ: ৩৮০
- মোট ফল পরিবর্তন: ১,৬৮৪
- পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা আবেদন: ৭৪,৭১৭
গ্রেড পরিবর্তনের বিস্তারিত
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী নতুনভাবে উত্তীর্ণ ৩৮০ জনের মধ্যে গ্রেড অনুযায়ী ভাঙ্গন নিম্নরূপ:
| পূর্বের গ্রেড | কতজন | নতুন গ্রেড (বিবরণ) |
|---|---|---|
| F (অকৃতকার্য) | ৩৮০ | A:1, A-:3, B:33, C:19, D:324 |
| D থেকে | ১৫ | A-:1, C:14 |
| C থেকে | ৬৭ | A:1, A-:1, B:65 |
| B থেকে | ১৬৪ | GPA-5:2, A:12, A-:150 |
| A- থেকে | ৩২৭ | GPA-5:19, A:308 |
| A থেকে | ৭৩১ | GPA-5:731 |
উপরের টেবিলে বিভিন্ন গ্রেড থেকে উন্নীত অথবা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার সারসংক্ষেপ দেখানো হলো। বোর্ডের দেওয়া বিশদ পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশেষত A গ্রেড থেকে সরাসরি জিপিএ-৫ ওঠা সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের ফলে এসেছে বলে বোর্ড জানায়।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ব্যবস্থা
প্রফেসর এস এম হোসেন আলী বলেন, খাতায় নম্বর গণনা, নম্বর ওঠানো বা লিখনসংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যারা ত্রুটির জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের পরীক্ষায় তাদের কাউকে খাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
যশোরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশোধিত ফলাফল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে—যা প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন, কলেজ ভর্তি ও ভর্তিচ্ছু স্কুল-কলেজগুলোর ছাড়পত্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্যও এ ফল গুরুত্বপূর্ণ; অনেকে আগে অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় এই পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া ও তার ফল ভবিষ্যতে মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষাগুলি পরিচালনার মান এবং পরীক্ষক নিয়োগ প্রণালীতে পরিবর্তন আনার প্রেক্ষাপটও তৈরী করতে পারে।