ফরিদপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় প্রায় ১৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে ইতোমধ্যে আবাসিকভাবে ইংরেজি ভার্সনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্বোধন
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে। একদিকে একাডেমিক মান বজায় রাখা হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা গড়ে তোলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ক্রীড়া ও ডিজিটাল দক্ষতাও বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভর্তি ও শিক্ষাবর্তমান কার্যক্রম
অধ্যক্ষ জানান, ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়। যাচাই-বাছাই পেরিয়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ক্লাসে এসেছে এবং গত ১২ আগস্ট থেকে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠদানের কার্যক্রম মাঠে নামিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, যা আরও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সংযুক্তি
এমসিএসএফ পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে যশোর সেনানিবাসের অধীনে থাকা ৫৫ পদাতিক ডিভিশন-এর তত্ত্বাবধানে। অধ্যক্ষ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্থানীয় অর্থনীতি ও সমাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ফল দেখা যাবে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবহন চাহিদা বৃদ্ধি, শিক্ষাসামগ্রী ও বিভিন্ন সেবার চাহিদা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীবৃন্দের জন্য কাঠামো ও লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান ক্যাডেট কলেজগুলোর পরিবেশ ও নিয়মাবলীর সমতুল্য একাডেমিক ও শৈল্পিক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার দিকে নয়, একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে—এটাই প্রতিষ্ঠানটির একটি মৌলিক লক্ষ্য।
- অবস্থান: রঘুনন্দনপুর, ফরিদপুর
- জমির পরিমাণ: প্রায় ১৮ একর
- শুরুর শ্রেণি: সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি (আবাসিক, ইংরেজি ভার্সন)
- তত্ত্বাবধায়ক: ৫৫ পদাতিক ডিভিশন, যশোর সেনানিবাস
সম্ভাব্য স্থানীয় প্রভাব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে সরাসরি ও পরোক্ষ লাভের সুযোগ তৈরি হবে। নিন্মোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রভাব প্রত্যাশিত:
- স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি—খাবার, বাসস্থান, পরিবহন ও সাপ্লাই সার্ভিসে চাহিদা বাড়বে।
- শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মী ও সহায়ক স্টাফ নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
- শিক্ষা মান ও প্রতিযোগিতার স্তর বাড়লে পার্শ্ববর্তী স্কুলগুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন ও মানোন্নয়ন দেখা দিতে পারে।
সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনাবলি |
|---|---|
| ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ | অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু |
| ১২ আগস্ট, ২০২৬ | সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠচক্র শুরু |
| ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | প্রতিষ্ঠানের ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন |
রোলআউট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অধ্যক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে কেবল শিক্ষা বিস্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হবে না; স্কুলটি যাতে স্থানীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও শ্রেণি চালু করা, একাডেমিক পাঠ্যক্রম ও অতিরিক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফরিদপুরে নতুন এই মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল রাজপথে নয়, বরং শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে—বিশেষত যেখানে স্কুল-কলেজ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সামরিক ব্যবস্থাপনা এনেছেন উন্নত শৃঙ্খলা ও পর্যবেক্ষণ। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এলাকার শিক্ষাবস্থা ও অর্থনীতি দুইভাবেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিপ্লব সরকার, ফরিদপুর প্রতিনিধির রিপোর্ট।