উজানের ঢলে গত প্রায় ১০ দিন ধরে পদ্মার পানি বাড়ায় রাজশাহীর তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে প্লাবন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানিয়েছেন, রাজশাহী পয়েন্টে শনিবার সকাল ৯টায় নদীর উচ্চতা ১৭.৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে; যেখানে ওই পয়েন্টের বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। অর্থাৎ বর্তমানে পানি বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রভাবিত এলাকা ও মানুষ
সরেজমিনে দেখা গেছে রাজশাহী শহরের বিপরীত তীরে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর এবং খানপুরসহ বিভিন্ন চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিডলচর ও খিদিরপুরের অনেক জায়গা আগের মধ্যচর থেকে এখন সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। কয়েক দিন আগে বিনোদনস্থল হিসেবে পরিচিত কিছু অংশও পানির নিচে চলে গেছে।
- ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার: জেলা প্রশাসন জানায় প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
- জরুরি প্রয়োজন: পানিবন্দীদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
- নগরীর জলাবদ্ধতা: গুড়িপাড়ার নিম্নাঞ্চলও জলে ডুবে আঙিনা এবং নিচু ঘরের মেঝেতে পানি উঠেছে।
প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবস্থান
পাউবোর কর্মকর্তা বলেছেন, রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধে এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি এবং তাদের পর্যবেক্ষণ ও সতর্ক অবস্থান অব্যাহত আছে। যদি বাঁধের কোনো স্থানে ঝুঁকি দেখা দেয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
"এখনো পদ্মার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে; কিন্তু চরাঞ্চলে পানি উঠছে—অবস্থা নিবিড়ভাবে নজরে রাখা হচ্ছে," পাউবোর মিটারগেজ রিডার এনামুল হক বলেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বুধবার নিজে গিয়ে পানিবন্দিদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং তাদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয়দের কষ্ট ও যোগাযোগ ব্যাহত
স্থানীয় ইয়াসির আলী জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে পানি বেড়েই চলেছে; যেখানে আগে মিডলচর ছিল, এখন তা তিন-চার দিনের মধ্যে ডুবে গেছে। রাহেমা বেগম বলেন, "পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমাদের জন্য সমস্যা।"
নিচু এলাকায় অনেক বাড়ির আঙিনায় হাঁটু সমপরিমাণ পানি জমেছে। ফলে দুরপক্ক ও রোগবিধানগত ঝুঁকি বাড়ছে; বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি সংকটের কারণে পানিকলুষিত পানি ব্যবহার করলে জলজ রোগ ছড়াতে পারে।
| মাপক মান | রেকর্ডেড উচ্চতা |
|---|---|
| বৃহস্পতিবার দুপুর (গত) | ১৭.০৫ মিটার |
| শুক্রবার সকাল | ১৭.২০ মিটার |
| শনিবার সকাল (রাজশাহী পয়েন্ট) | ১৭.৩০ মিটার |
| বিপৎসীমা (রাজশাহী পয়েন্ট) | ১৮.০৫ মিটার |
জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার, পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া ও চরের মানুষের প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের অগ্রাধিকার মনে করা হচ্ছে।
পদ্মার পানি বৃদ্ধি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আরো চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অনায়াসে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ফসলের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা একযোগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।