নীলফামারী সদর উপজেলার সুবর্ণঝুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি ও পরে অজ্ঞাতপরিচয়ের দূর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ভেন্টিলেটর ভেঙে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও অফিস ও শ্রেণিকক্ষের মধ্যে অগ্নিসংযোগ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং শিক্ষকদের ধর্মীয় সামগ্রী পুড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষ পিছনের দিকে নির্মাণাধীন মন্দির থেকে বাঁশের মই এনে দেয়ালের ভেন্টিলেটর ভেঙে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে থাকা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে চুরি ও ক্ষতিগ্রস্ত করার যে তালিকা পাওয়া গেছে তা থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো।
- চুরি হওয়া সামগ্রী: ওয়াই-ফাই রাউটার, অনু এবং সোলারের একটি বড় ব্যাটারি
- অগ্নিসংযোগে পুড়ে নষ্ট: সরকারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হিজাব ও জায়নামাজ
- স্কুলের ইনটেরিয়রে ভাঙচুর: দুইটি স্টিলের আলমিরা ভাঙা
| প্রবণতা | প্রাপ্ত তথ্য |
|---|---|
| চুরি করা আইটেম | ওয়াই-ফাই রাউটার, অনু, সোলারের বড় ব্যাটারি |
| পুড়িয়ে নষ্টকৃত | সরকারী কাগজপত্র, হিজাব, জায়নামাজ |
| ভাঙচুর | দুইটি স্টিলের আলমিরা |
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও উদ্ধার চেষ্টা
ঘটনাটি স্থানীয়রা সকালে বিদ্যালয়ের ভিতরে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখে প্রথমবার জানতে পারেন। তখনই এলাকার মানুষ ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দ্রুত অবস্থান করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং পরে ৯৯৯ এ কল করে নীলফামারী সদর থানা ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ফোরেন্সিক ও তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়।
“আমাদের একটি বিদ্যালয়ে চুরি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছি যাতে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়।” — নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জছিজুল আলম মন্ডল
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. উম্মে সালমা নাজনীন জানিয়েছেন, এ ঘটনা সংক্রান্ত নীলফামারী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন যে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ও অফিস কক্ষে থাকা কাগজপত্র ও ধর্মীয় সামগ্রীর ক্ষতি শিক্ষার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
নগরের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব ও উদ্বেগ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি শিক্ষাঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ায়। সরকারি কাগজপত্র ও রেকর্ড নষ্ট হলে ছাত্র-ছাত্রীদের নামযোগ, অনুপস্থিতি বা অনুদান সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এখনই কোন শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষাসেবা সম্পর্কিত ক্ষতি কতটা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না; পুলিশের তদন্ত শেষে সেটি পরিষ্কার হবে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন স্কুলের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে বাহিরের দেয়াল, জানালা ও ভেন্টিলেটরের রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারাদার বաստবায়ন জরুরি।
নীলফামারী সদর থানার পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও আশপাশের বাজার-রাস্তা ইত্যাদি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে এবং তদন্তে কী ফল পাওয়া যাবে, তা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহল ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।