নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নে গত ৫ জানুয়ারির রাতের হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে চলা তদন্তে গত রোববার রাতে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজনকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ও তাদের পারিবারিক পরিচয়
| নাম | উপজেলা ও গ্রামের সূত্র | পরিচয় |
|---|---|---|
| রাজেন্দ্র চৌহান রাজু | পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজার, গোদারাঘাট এলাকা | মঙ্গল চৌহানের ছেলে; মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত |
| সাগর চৌহান | চরসিন্দুর, একই এলাকার চন্দ্রন চৌহানের ছেলে | গ্রেপ্তারকৃত অপর ব্যক্তি |
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও পরিবারের অভিযোগ
পলাশের চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের নিজ ঘরের ফটকের সামনে রাতে ফিরতি পথে ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তীকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সশস্ত্র হামলার পর ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। মামলাটি নিহতের পিতা পলাশ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, মণি চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় ব্যবসায়ে যুক্ত ছিলেন এবং রাজেন্দ্র চৌহান রাজুর সঙ্গে ব্যবসায়ী অংশীদারিত্ব ছিল। নিহতের স্ত্রী বলেন, ব্যবসার লেনদেনের ওপর বিরোধ গড়ে ওঠে; ব্যাংকভিত্তিক কর্মসূচি ও ভিসা ইস্যু নিয়ে মণির কাছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা চাইলেন রাজেন্দ্রের কাছে পাওনা হিসেবে। এই আর্থিক বিবাদ থেকেই সৌজন্যতাকেই টেনে হত্যার মতো ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে পরিবার ধারণা করেন।
"টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়; একপর্যায়ে রাজু ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করিয়েছে,"— বলেছেন নিহতের স্ত্রী অন্তরা মুখার্জি।
শুরুর প্রক্রিয়া ও পুলিশের পড়াপড়া
পরিকল্পিত হত্যার ঘটনায় পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল; তাদের মধ্যে ইমরান হোসেন, রনি মিয়া, সুমন মিয়া ও মেহেদী হাসান নামে চারজনকে আটক দেখানো হয়। এই চারজন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পরে চলতি বছরের তদন্তে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পদক্ষেপে রোববার রাতে রাজেন্দ্র ও সাগর নামে দুইজনকে নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও মামলার প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজার ও এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশে এমন হত্যাকাণ্ড গ্রাম-শহরের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। নিহত মণি চক্রবর্তীর পরিবারের দাবি ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে ব্যবসায়িক বিরোধ এবং পাওনা-দাবির ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- ঘটনার দিন: ৫ জানুয়ারি (রাত)
- গ্রেপ্তারের সময়: রোববার রাত (তারিখ অনুসারে সম্প্রতি)
- গ্রেপ্তারকারিণী: নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ
পরবর্তী বিচারকার্য ও তদন্তের ধাপ
দ্রæতভাবে গ্রেপ্তার স্বত্ত্বেও মামলা এখনই আদালতে বদঅভিযাদি বা চার্জশিট দাখিল সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার বের করা তথ্য-প্রমাণ মামলাটির পরবর্তী অবস্থা নির্ধারণ করবে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে হত্যাপরিকল্পনার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তারা জোরালো দাবি জানাবে।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই হত্যা ঘটনার পিছনে আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক মতবিরোধ প্রধান সূত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; তদন্ত কমিশন ও আদালতের নির্দেশ অনুসারে আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। পুলিশ যদি মামলার অন্যান্য যুক্ত আসামিদেরও চিহ্নিত করতে পারে তবে গ্রেপ্তার আরও বিস্তৃত হতে পারে।
নরসিংদীর পলাশের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্তকারী দলের পদ্ধতিগত দায়িত্ব হলো দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত চালিয়ে সব জড়িতকে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে হতাহত পরিবারের কাছে সুরাহা ও ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে স্থানীয় বিদিতরা মনে করেন।