মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণ সোমবার বিকেলে এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম সংলগ্ন ইনডোর স্টেডিয়ামে সম্পন্ন হয়েছে। টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগেই মৌলভীবাজার সদর থানা চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।
টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ও বার্তা
প্রতিযোগিতার মূল স্লোগান ছিল— “মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি”। জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয় যুবসমাজকে নেশা ও অপরাধ থেকে বিরত রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার উদ্দীপনা সৃষ্টি।
“তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে তোমরাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রেখে পড়াশোনা ও খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে হবে।”
এই বক্তব্যটি প্রদান করেন পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।
ফাইনাল ফল ও অংশগ্রহণ
অনুষ্টানে জানানো হয়, জেলার ৭টি থানা থেকে বাছাইকৃত দলগুলোর অংশগ্রহণে পুরুষ বিভাগে ৭টি দল এবং নারী বিভাগে ২টি দল খেলেছে। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে একটি বাছাইকৃত দল পরবর্তী রেঞ্জ পর্যায়ে পাঠানো হবে।
| বিভাগ | চ্যাম্পিয়ন | রানার-আপ |
|---|---|---|
| অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ | মৌলভীবাজার সদর থানা | রাজনগর থানা |
| অনূর্ধ্ব-২০ নারী | মৌলভীবাজার সদর থানা | শ্রীমঙ্গল থানা |
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও সংগঠক
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের; জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হানিফ মো. খান নিয়াজ; মৌলভীবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন।
- আয়োজক: মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ
- সহযোগী: জেলা ক্রীড়া সংস্থা
- উদ্দেশ্য: ক্রীড়া প্রসার, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যুবসংস্কৃতি গঠনে সহায়তা
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ধাপ
জেলার সঙ্গে সীমিত সংস্থান থাকা সত্ত্বেও কাবাডি প্রক্রিয়াগতভাবে যুবসমাজকে সংগঠিত করে। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার বিজয়ী দলকে রেঞ্জ পর্যায়ে পাঠানো হবে—যা স্থানীয় ক্রীড়া দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে জেলার ক্রীড়া কর্মীরা মনে করেন। স্থানীয় প্রশিক্ষণ, পর্যায়ক্রমিক প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়া ও সমাজ সচেতনতা দুটোই অনুকূলে যাবে।
কীভাবে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করবেন
যদি কোনো থানা বা স্থানীয় সংগঠনে অংশগ্রহণের আগ্রহ থাকে, তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে; জেলা পুলিশ ও ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে পরবর্তী বাছাই এবং রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। তরুণদের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস ও নেশা থেকে দূরে থাকার ভাবমূর্তি গড়তে অভিভাবক-শিক্ষকমণ্ডলীও ভূমিকা রাখতে পারে।
টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া শৃঙ্খলা, দলগত সমন্বয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে—এটি শুধু ক্রীড়া নয়, সমাজ নির্মাণের এক ছোট কিন্তু কার্যকর অংশ বলে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্যায়িত হচ্ছে।