নরসিংদীর মনোহরদী থানার অভিযানে ডিমবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের ৫ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনোহরদী থানার হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে শিবপুর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার ঘটনাটির কথা নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ডাকাতরা পিকআপ ভ্যানে অবস্থানরত চালক ও তার সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে অন্য একটি পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে রেখে ডাকাতরা লুণ্ঠিত মালামাল ও গাড়ি নিয়ে পালায়। মামলাটি মনোহরদী থানায় দায়ের করেন গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়
সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:
- ইমন (২৮), বড়নগর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ — বাদশা মিয়ার ছেলে
- মো. রিফাত হৃদয় (২৮), বড়নগর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ — মুজিবুর রহমানের ছেলে
- আব্দুল্লাহ আল মুন্না (ওরফে রুমান), দেবিদ্বার, কুমিল্লা — জসিম উদ্দিনের ছেলে
- রহমত আলী (ওরফে জিল্লুর), ইটনা, কিশোরগঞ্জ — রাজা মিয়ার ছেলে
- জসিম উদ্দিন, সেনবাগ, নোয়াখালী — আবু তাহেরের ছেলে
উদ্ধারকৃত মালামাল ও সঙ্গীয় তথ্য
পুলিশ জানায়, অভিযানে নিম্নোক্ত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
| উদ্ধারকৃত বস্তুর বিবরণ | পরিমাণ / তথ্য |
|---|---|
| লুণ্ঠিত পিকআপ ভ্যান | উদ্ধার করা হয়েছে |
| ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান | জব্দ করা হয়েছে |
| খালী ডিমের ক্যারেট | ৯৮টি |
| ডিম বিক্রির নগদ | ১০,০০০ টাকা |
| দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন | উদ্ধার ও জব্দ |
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলা ও মহাসড়কে ডাকাতি করত বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ থেকে গ্রেপ্তার—পুলিশের কর্মপদ্ধতি
ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে তদন্তে মনোহরদী থানা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বরূপ উদঘাটনে কাজ করেছে। শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকারের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় পৃথক অভিযানে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা, এসআই শহীদুজ্জামান এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলার পর তারা আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
স্থানীয়দের মধ্যে সড়কপথে মালবাহী যান-চালনা এবং বিশেষত খাদ্যপণ্য পরিবহনে উদ্বেগ বেড়েছে। ডিম-ভিত্তিক বণিকরা, মালামাল পরিবহনকারী চক্র এবং সাধারণ পথচারীরা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তাদের জীবিকা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে বলে জানিয়েছেন পরিবহণজীবীরা।
এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিত পুলিশের পদক্ষেপ স্থানীয় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে—এমনটাই মনে করছে জেলা নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকরা।
পরবর্তী কার্যক্রম
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলমান রয়েছে। অপর দিক থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য নেটওয়ার্ক বা সহযোগীদের সনাক্ত করার লক্ষ্যে জেলায় এবং আশপাশের এলাকায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় জনগণকে পুলিশ অনুরোধ করেছে যে যেকোন সন্দেহজনক তথ্য বা ঘটনার প্রমাণ থাকলে দ্রুত থানায় জানাবেন এবং পথচারী ও চালকরা রাতের বেলা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।