পাটগ্রাম উপজেলা, লালমনিরহাট থেকে সংবাদদাতা — লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার মেসেরঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি মামলা দায়ের করে এবং বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সারমর্ম ও গ্রেফতার
রংপুর জেলার ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বাউরা ডাঙ্গাটারী ক্যাম্পের টহল দল বাউরা বাজার এলাকায় টহলরত অবস্থায় দুইটি অটোভ্যানে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু-পাথর ও একটি ড্রেজার মেশিন পরিবহণের দৃশ্য লক্ষ্য করে। বিজিবি সদস্যরা ওই যানবাহনসহ ড্রেজার মেশিন, পাইপ ও ড্রাম জব্দ করে কুচলিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যান।
রাত করে জব্দকৃত মালামালের মালিকরা ক্যাম্পে এসে জোরপূর্বক মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযোগ রয়েছে—তারা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, বিজিবি সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়। এর পরেই বিজিবি সদস্যরা অভিযুক্তদের আটক করে, পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে ছয়জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ও মামলা
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বুড়িমারীর রফিকুল ইসলাম (৫০), আইয়ুব আলী (৫০), আবু সাঈম (২৮), মতি রহমান (৪০) এবং নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা গ্রামের শাহাদাত হোসেন (৪০) ও দুলাল মিয়া (৪৮)।
“সরকারি কাজে বাধা, স্বেচ্ছায় আঘাত ও হুমকির অপরাধ”
বাউরা ডাঙ্গাটারী ক্যাম্পের হাবিলদার উত্তম চন্দ্র দাস এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে পাটগ্রাম থানায় মামলাটি রেকর্ড করেন এবং আটক ব্যক্তিদের থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল ও আনুমানিক মূল্য
বিজিবি ও পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় থেকে নিন্মলিখিত সামগ্রী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য বলা হয়েছে ১৪ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা।
| বস্তু | পরিমান |
|---|---|
| ৬ সিলিন্ডারের ডিজেল ড্রেজার মেশিন | ১টি |
| খালি তেলের ড্রাম | ৪টি |
| মোটা পাইপ | ১০টি |
| রিং পাইপ | ১টি |
| ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান | ২টি |
| মোটরসাইকেল | ১টি |
| অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল | ৪টি |
| বাটন মোবাইল | ৩টি |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
সীমান্তবর্তী এলাকায় বালু ও পাথর উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পরিবেশ ও মানবজীবনের ওপর প্রভাব ফেলছে। বালু-মাটি উত্তোলন এবং নদী পাড় পলল সরবরাহে যেসব কৌশল অবৈধভাবে চালানো হয়, তা বড় নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং গ্রামের জলবায়ু ও ফসলি জমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের অভিযানে জব্দকৃত সরঞ্জাম ও তাদের আর্থিক মূল্য স্থানীয় বাজারে অবৈধ খাতগুলোর বড় মাত্রার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- বিজিবি ও পুলিশি অভিযানের ফলে সাময়িকভাবে অবৈধ কার্যক্রম ব্যাহত হলেও মূল চক্র কীভাবে সংগঠিত ছিল তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
- জব্দকৃত সরঞ্জাম ও তাদের মালিকানার সূত্র খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত পুনরায় অনৈতিক উত্তোলন স্থবির করা যাবে না।
- স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে এলাকায় স্থায়ী পরিবেশগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
এই ঘটনায় বাউরা ডাঙ্গাটারী ক্যাম্পর হাবিলদার উত্তম চন্দ্র দাস বাদী হয়েছিলেন বলে পুলিশি প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে; মামলার পরিকল্পিত তদন্ত এবং আদালতের কার্যক্রম সামনে রেখে এই গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পাটগ্রাম থানার বিভিন্ন পর্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত-ক্রিয়া এখনও চলছে এবং আদালত থেকে তাদের রিমান্ড বা মুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী ধারায় জানা যাবে।
লালমনিরহাট অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ খনির বিরুদ্ধে সুশৃঙ্খল অভিযান অব্যাহত না রাখলে স্থানীয় পরিবেশগত ও আইনগত চ্যালেঞ্জ বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।