গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও এলাকার পরিচিত নেতা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী আর নেই। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ৯টা ঘটিকায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের বরাতে তাঁর বয়স জানানো হয়েছে ৮০ বছর।
চাকরি ও রাজনৈতিক জীবন
প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মজীবনে ছিলেন উল্লেখযোগ্য। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ডিগ্রি অর্জন করে সরকারি সেবায় যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে ছিলেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর চেয়ারম্যান।
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ক্ষমতাসীন দলকে নিয়মিত সমর্থন করলেও বিভিন্ন নির্বাচনে নানা পর্যায়ে ফলাফল ভিন্ন হয়েছে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিছু নির্বাচনে দলীয় নীতিনির্ধারণ ও মনোনয়ন প্রসঙ্গে উত্তেজনা রয়েছে—কোনো নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রতিযোগিতাও করেছেন।
শিক্ষা ও পারিবারিক জীবন
প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এইচএসসি পাশ করেন। পরে বুয়েটে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তিনি কামদিয়া গ্রামের মৃত মোশাররফ হোসেন চৌধুরীর বড় ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও অনুরাগী রেখে গেছেন।
প্রতিক্রিয়া ও শোক
মরহুমের মৃত্যুতে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাবিদ মহল শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডি তাকওয়া জামে মসজিদে প্রথম জানাজা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাতিজা মাসুম লুমেন মৃতের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন—
“মনোয়ার হোসেন নম্র, ভদ্র ও সৎ লোক ছিলেন। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি, সবার কাছে দোয়া চাই।”
জানাজা ও দাফনকর্মসূচি
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে জানাজার সময়সূচি নিম্নরূপ:
- প্রথম জানাজা: বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর), বাদ জোহর — ধানমন্ডি তাকওয়া জামে মসজিদ, ঢাকা।
- দ্বিতীয় জানাজা: বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর), সকাল ১০টা — গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।
- তৃতীয় জানাজা: বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর), বাদ জোহর — কামদিয়া দারুল উলুম সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসা মাঠ; এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন।
| ঘটনা | সময় ও স্থান |
|---|---|
| মৃত্যু | ৮ সেপ্টেম্বর, রাত ≈ ৯টা, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা |
| প্রথম জানাজা | ৯ সেপ্টেম্বর, বাদ জোহর, ধানমন্ডি তাকওয়া জামে মসজিদ |
| দ্বিতীয় জানাজা | ১০ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০টা, গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ |
| তৃতীয় জানাজা ও দাফন | ১০ সেপ্টেম্বর, বাদ জোহর, কামদিয়া দারুল উলুম সিদ্দিকিয়া মাঠ; পারিবারিক কবরস্থানে দাফন |
স্থানীয় প্রভাব ও আগাম প্রশ্ন
গোবিদগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে মনোয়ার হোসেনের অনুপস্থিতি জায়গাটি ছুঁবে—তার দীর্ঘ সরকারি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজে প্রভাবশালী। ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর সক্রিয় আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি বদল সম্ভব। এলাকার বিদ্যমান নেতৃত্ব ও দলীয় কাঁচামাল কিভাবে সামলাবে তা এখন দেখার বিষয়।
মরহুমের জীবন ও কর্ম এলাকার ইতিহাসে লেখা থাকবে—সরকারি কর্মজীবন, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে স্থানীয়রা স্মরণ করবেন। পরিবার ও আহ্বানকারী প্রতিনিধিগণ জানিয়েছেন, জানাজা ও দাফনে অনুরণিত হওয়ার জন্য এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণ কাম্য।