রাঙ্গামাটি থেকে রিপোর্ট: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সম্প্রতি চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। এ অনুমোদনের ফলে রাঙ্গামাটি জেলার তিনটি জেলা মহাসড়ক উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
আসল পথে কোন কোন সড়ক উন্নত হবে
প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলার তিনটি জেলা মহাসড়ককে মানসম্মত ও প্রশস্তকরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী এগুলো হল:
- বাঘাইহাট–মারিশ্যা জেলা মহাসড়ক — ২০ কিলোমিটার
- বাঙ্গালহালিয়া–রাজস্থলী জেলা মহাসড়ক — ১৮.৭৬ কিলোমিটার
- রাণীরহাট–কাউখালী জেলা মহাসড়ক — ৬.২০৭ কিলোমিটার
একনেক অনুমোদিত এই প্রকল্পে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় মোট ১৬টি সড়ক উন্নীত করা হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কাজ হলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত ও নিরাপদ হবে।
স্থানীয় প্রত্যাশা ও বিভাগীয় মতামত
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন,
“প্রকল্পটি অনুমোদনের ফলে রাঙ্গামাটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সড়ক খারাপ থাকার ফলে উৎপাদিত পণ্য শহরে পৌঁছে দিতে বিলম্ব ও অতিরিক্ত খরচের সমস্যায় যাচ্ছেন। তারা এই উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু হলে বিক্রয়শীলতা ও লাভবান হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—
- যাতায়াতের সময় হ্রাস ও যাত্রীস্বস্তি বাড়বে।
- পণ্য পরিবহনে খরচ কমবে, ফলে কৃষি ও বানিজ্যিক কর্মকাণ্ডে উন্নতি আসবে।
- দুর্ঘটনা বা পথদুর্যোগ কমে সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে।
| সড়কের নাম | দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার) |
|---|---|
| বাঘাইহাট–মারিশ্যা | 20.00 |
| বাঙ্গালহালিয়া–রাজস্থলী | 18.76 |
| রাণীরহাট–কাউখালী | 6.207 |
কাজের মান ও সময়মেয়াদ নির্ধারণ ও তদারকির জন্য বিভাগীয় স্তরে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হবে বলে কাগজপত্রে বলা আছে। তবে সড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পগুলোর বাস্তব উদ্দীপনা ও সুষ্ঠু তদারকিই শেষপর্যন্ত প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণ করবে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
চ্যালেঞ্জ ও নজরদারি
পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক নির্মাণে ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু ও বসতি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে—যেগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বাধা স্বরূপ হতে পারে। পরিবেশগত স্বীকৃতি, ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বয় বিষয়গুলোও সুসমন্বিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা, বাজেট বরাদ্দ ও সময়সীমা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম রোধে স্থানীয় গণসংযোগ বাড়ানো ও স্থিতিশীল তদারকি গঠন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
রাঙ্গামাটি জেলার জন্য এই অনুমোদন স্থানীয় জীবিকা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দান করবে যে ধরনের পরিবর্তন, তা বাস্তবায়িত কাজের গুণগত মান ও সময়মেয়াদ নির্ভর করবে। অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রকল্প সংক্রান্ত পরবর্তী বিস্তারিত সূচনা পর্যায়ের তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।
রিপোর্ট: অংশুমান চাকমা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি