অর্থনীতি চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম (43)

দুই মাসে দখলমুক্ত হবে চট্টগ্রাম বন্দর: মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

নৌপরিবহন মন্ত্রী জানিয়েছেন, আদালতে থাকা কয়েকটি স্থানের মামলার পাশে ইতোমধ্যে তিনটি লিজ বাতিল হয়েছিল; দুইটি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে, অপরটি আদালতে রয়েছে। তিনি দুই মাসের মধ্যে বন্দরের দখলমুক্তি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন এবং বন্দরের কার্যক্রম দ্রুততার পরিবর্তন তুলে ধরেন।

দুই মাসে দখলমুক্ত হবে চট্টগ্রাম বন্দর: মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
©অলংকরণ নাসির উদ্দিন / we-news.com

চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক এলাকা অবৈধভাবে দখল ও লাইজ হয়েছে—এই অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি এ কথা সংসদে বলেন এবং বলছেন, ইতোমধ্যে কিছু জায়গার লিজ বাতিল করা হয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে দুটি উদ্ধার করা হয়েছে, আর একটির বিষয়ে মামলা চলছে।

মন্ত্রী কী বলছেন

“চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েকটি জায়গার লিজ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তিনটি জায়গার লিজ বাতিলের পর এর মধ্যে দুটি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। অপর জায়গার বিষয়টি আদালতে রয়েছে… আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো জায়গা আর দখলকৃত থাকবে না।”

সংসদে মন্ত্রী আরও জানান যে, বন্দরের কিছু এলাকায় মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, যার ফলে রেল মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অতঙ্খিত দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি নিজে চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে বিষয়গুলোর বিশদ শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতে থাকা বিষয়গুলো আরবিট্রেশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বন্দরের কার্যক্রমে পরিবর্তন ও সময়সীমা

মন্ত্রী সংসদে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে তুলে ধরেন যে, বর্তমানে কোনো জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন বার্থ বা ডিপ সাইটে থাকা জাহাজ দুই দিনের মধ্যে পণ্য খালাস ও পুনরায় পণ্য লোড করে ছেড়ে যেতে পারছে; যেখানে আগে এ কাজে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগত।

এ থেকে বোঝা যায় বন্দরের ঘূর্ণনগতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা কাস্টমার সার্ভিস, খরচ ও সময়ভিত্তিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

চলমান উদ্যোগ ও পরিকল্পনা

সংসদে মন্ত্রী আরও বলেন যে:

  • কয়েকটি জায়গার লিজ বাতিল করা হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
  • আদালতে থাকা ভূমিসংক্রান্ত বিষয় আরবিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে পরিচালিত করা হচ্ছে।
  • লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসছে এবং এর ফলে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে—এই তথ্য সংসদে উপস্থাপিত হয়।

পরিবহন নেটওয়ার্ক ও নৌপথের অবস্থা

মন্ত্রী সংসদে আরও জানান যে দেশের নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথে ড্রেজিং চলছে। এই কাজগুলি নদীবহির্ভূত ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে সরাসরি সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত উদ্যোগ

ঢাকার চারপাশের নদীসমূহে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্তও মন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জানান যে দূষণের উৎস চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে এবং রাজধানীর চারটি নদী দূষণমুক্ত করতে ওয়াসা, দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা

চট্টগ্রামের বন্দরীয় অর্থনীতি ও সরাসরি জড়িত ব্যবসা-সামগ্রী লজিস্টিকস কোম্পানি, কাস্টমস, শিপিং এজেন্সি ও শ্রমিকদের জন্য বন্দরের জমি উদ্ধারের দ্রুত বাস্তবায়ন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বন্দরের জায়গা মুক্ত হলে অবৈধ লীজ ও অব্যবস্থাপনার কারণে বাধাগ্রস্ত অবকাঠামো উন্নয়ন সহজ হয়ে উঠবে এবং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিষয়সংখ্যা/বিবরণ
লিজ বাতিল৩টি (এর মধ্যে ২টি উদ্ধার, ১টি আদালতে)
জাহাজ খালাস সময়আগে: ৮–১০ দিন; এখন: ২ দিন
ড্রেজিং (চলমান)৭,৫০০ কিমি সচল + ১,২০০ কিমি ড্রেজিং চলছে
দূষণ নির্ণয়কৃত স্পট৪২৪টি

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নোড। সরকারি এই ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে ও কোন সময়সীমায় পূরণ হবে, তা স্থানীয় ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক মহল নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রীর ঘোষণায় বন্দরের ভূমি-অস্বচ্ছতা দূর হলে পোর্ট-সিটি সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যানিং ও বিনিয়োগও আরও সুফল পাবে বলে প্রত্যাশিত। বাস্তবিক অপারেশনাল পরিবর্তন ও নীতিগত সমাধান কবে পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেবে—এ বিষয়টি পরবর্তী সময়ে খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

নাসির উদ্দিন
নাসির এআই চট্টগ্রাম প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি নাসির, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

43চট্টগ্রাম

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো চট্টগ্রাম, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব